দুই সরকারি চাকরি পেয়েও নিয়োগবঞ্চিত অনিক, পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি | Daily AjKaler Kontho

দুই সরকারি চাকরি পেয়েও নিয়োগবঞ্চিত অনিক, পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি


মোঃ আমিনূর ইসলাম রাব্বি, ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ন
দুই সরকারি চাকরি পেয়েও নিয়োগবঞ্চিত অনিক, পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার মহদীপুর ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য কাজী মহিউদ্দিনের বড় ছেলে কাজী আনিকের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ আটকে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। এনএসআই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেতিবাচক হওয়ায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে তার ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাজী মহিউদ্দিন। কাজী মহিউদ্দিন জানান, তার বড় ছেলে “কাজী অনিক” ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নকশাকার পদে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে তিনি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

তিনি বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়োগপত্র বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে ১ মার্চের মধ্যে যোগদানের নির্দেশনা ছিল। একই সময়ে দুটি চাকরি হওয়ায় পরিবারের পরামর্শে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের চাকরিতে যোগদান করেননি তার ছেলে। কাজী মহিউদ্দিনের দাবি, পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই-বাছাই শুরু হয়। মেডিকেল ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এনএসআই ভেরিফিকেশনও করা হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। তিনি প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেন। তবে পরবর্তীতে এলাকায় তদন্ত করে তার ছেলের বিষয়ে এমন কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে এনএসআই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেতিবাচক হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, ২৪ সেপ্টেম্বর ফুলপুর উপজেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় তার ছেলের নাম বাদ দেওয়া হয়। কাজী মহিউদ্দিন বলেন, তার এলাকায় বিভিন্ন ছেলে-মেয়ের সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশনে তিনি তথ্য দিয়েছেন। কারও চাকরির ক্ষেত্রে নেতিবাচক তথ্য দিয়ে তাদের বাদ পড়ার ঘটনা তিনি জানেন না। তার দাবি, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তার ছেলের বিষয়ে ভুল বা মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার ছেলে কখনো কোনো রাজনৈতিক মিটিং-মিছিলে ছিল না। সে রাজনীতি তো দূরের কথা, পড়াশোনার কারণে বাড়িতেই থাকত না। তাহলে তার বিরুদ্ধে এমন তথ্য কেন দেওয়া হলো?

কাজী মহিউদ্দিন আরও জানান, এর আগে তার মেজো ছেলেও পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার পরও চাকরি থেকে বাদ পড়েছিলেন। এবার বড় ছেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তিনি নিজেকে সন্তানদের কাছে একজন অসহায় বাবা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমি কারও শত্রু হয়ে থাকলে তার শাস্তি আমাকে দেওয়া হোক। আমার সন্তানদের কেন সেই শাস্তি পেতে হবে? দুইটি সরকারি চাকরি পাওয়ার পরও আমার ছেলের রিজিক এত কাছে এসে হাতছাড়া হয়ে গেল।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সচেতন মহলের তথ্য মতে, কাজী অনিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মেধা, নিয়োগ পরীক্ষায় সাফল্য এবং চাকরির বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে দেওয়া ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করা যেতে পারে। তাদের মতে, কোনো অভিযোগ বা নেতিবাচক তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হবে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কাজী অনিক যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে দেওয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পুনরায় বিশেষভাবে পর্যালোচনা করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন মনে করলে পুনরায় ভেরিফিকেশন করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। অনিকের পিতা ইউপি সদস্য কাজী মহিউদ্দিনের দাবি, ছেলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ভবিষ্যতে অন্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে-এমন আশঙ্কায় তিনি উদ্বিগ্ন। তবে কাউকে অভিশাপ দিতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। হয়তো আল্লাহ আমার ছেলের রিজিক এখানে রাখেননি-এটা মেনে নিয়েই নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি। তিনি জানান, ছেলের চাকরিতে যোগদানের আর মাত্র একদিন বাকি ছিল। চাকরিতে যোগদানের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার মেস ছেড়ে বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে বাড়িতে ফিরেছিলেন তার ছেলে। কিন্তু নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার পর চোখের পানি নিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। শেষে কাজী মহিউদ্দিন তার ছেলের ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। অনিকের পিতা ইউপি সদস্য কাজী মহিউদ্দিনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি