
জনসাধারণের জন্য ডেঙ্গু পরীক্ষা সহজলভ্য করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৫২০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেছে দেবিদ্বার পৌরসভা।
পৌরসভার অর্থায়নে সরবরাহ করা এসব কিট ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে গ্রহণ করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. কবির হোসেন। এ সময় দেবিদ্বার পৌরসভার পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেবিদ্বার উপজেলার সাধারণ মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহজে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন।
দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন।”
তিনি ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীর ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা।
জ্বর ও ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর নয়।
পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি, ফলের জুস, ডাবের পানি ও ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস/স্যালাইন) গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শুধু প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীর রক্তচাপ, নাড়ির গতি, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং সার্বিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তীব্র পেটে ব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহার এবং মশা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :