
কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা ও উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে লক্ষ্মীপুরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ছয়টি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল এবং বখাটেপনার অভিযোগ রয়েছে—এমন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
ছয় থানা ও ডিবির সমন্বয়ে অভিযান
অভিযানের আওতায় ছিল লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর ও চন্দ্রগঞ্জ থানা। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের আড্ডা, বখাটেপনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা রয়েছে—এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানোই ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আটক ২৪৪, তবে সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয় জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে মোট ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কোন থানায় কতজন আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে থানাভিত্তিক পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া আটক ২৪৪ জনের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বা অপরাধী—এমন দাবি পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়নি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের পর তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—আটক ২৪৪ জনের মধ্যে প্রকৃত কিশোরের সংখ্যা কত, কোন থানায় কতজন আটক হয়েছেন, কতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কতজনকে যাচাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য।
এসব তথ্য প্রকাশ হলে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :