সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট:গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন | Daily AjKaler Kontho

সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট:গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট:গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার বাসিন্দা মোছা. আরিফা খাতুন (৩৯)।

লিখিত বক্তব্যে আরিফা খাতুন বলেন, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর বউ বাজারের পাশে ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তাঁর স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। এ সুযোগে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মহাসিন আলী, মুজিবর রহমান, আক্তার হোসেন (চঞ্চল) ও আব্দুস সবুরসহ একদল অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাঁর জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে থাকাকালে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ ভাঙচুর করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে আসামীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অন্যথায় হত্যার হুমকি দেয়। আতঙ্কিত হয়ে ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে রাখা ৮০ হাজার টাকা রফিকুল ইসলাম মন্টুর হাতে দিয়ে আকুতি জানালেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আরিফা খাতুন অভিযোগ করেন, আসামীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। তাঁকে রক্ষায় ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়া তারা আরিফা খাতুনের বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায়, এবং গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। সন্ত্রাসীরা তাঁর গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন ও কানের ৮ আনার দুল ছিনিয়ে নেয় এবং হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে মা ও সন্তানকে খুনের পর লাশ গুমের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক্স-রে এবং ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বিজ্ঞ আমলী ১নং আদালত, সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট ধারায় সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন সংবাদ সম্মেলনে আরিফা খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা দায়েরের পর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আজ আমি ও আমার সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ গ্রেফতার পূর্বক কঠোর শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি