
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় রাতের বেলা কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের নিয়মিত রাত্রিযাপন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোচিং করানো হয়। এ কোচিংয়ের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে রাতের বেলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ধরনের কোচিং পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধ্যক্ষের রাত্রিযাপন নিয়েও প্রশ্ন
নাইট কোচিংয়ের অভিযোগের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের মাদ্রাসায় নিয়মিত রাত কাটানো নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার ওই কক্ষটি ব্যক্তিগত আবাসনের মতো ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে রাতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন গণমাধ্যমকর্মীরা। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাতের বেলা সাংবাদিকদের আসার কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি বলেন, “আপনারা রাতের বেলা কেন এসেছেন? যা বলার অফিস টাইমে এসে বলবেন।”
অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে—প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রাতের বেলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং কেন পরিচালিত হচ্ছে এবং একজন অধ্যক্ষ নিয়মিত সেখানে রাত্রিযাপন করলে তার প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না?
প্রশাসনের নজরে বিষয়টি
বিষয়টি নিয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমেই বিষয়টি আমি প্রথম জানলাম। রাতের বেলা মাদ্রাসায় কোচিং করানো বা রাত্রিযাপনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগের আড়ালে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে কোচিং পরিচালনা করে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার কক্ষ ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাতের বেলা নিয়মিত কোচিং পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অধ্যক্ষের রাত্রিযাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নজরদারি কতটা রয়েছে?
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :