ত্রিশালের পাঁচ স্কুলে নাটকের মাধ্যমে পাঠদান জাককানইবির শিক্ষার্থীদের‎ | Daily AjKaler Kontho

ত্রিশালের পাঁচ স্কুলে নাটকের মাধ্যমে পাঠদান জাককানইবির শিক্ষার্থীদের‎


শিহাবুল ইসলাম শাহেদ, জাককানইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ন
ত্রিশালের পাঁচ স্কুলে নাটকের মাধ্যমে পাঠদান জাককানইবির শিক্ষার্থীদের‎

‎ময়মনসিংহের ত্রিশালের পাঁচটি বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করে পাঠদান করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা।

‎২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ‘থিয়েটার ইন এডুকেশন’ (TiE) কোর্সের আওতায় সেপ্টেম্বর মাসে ত্রিশালের পাঁচটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কোর্সটির শিক্ষক ও নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন কার্যক্রমটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধান করেন।

‎‘সমস্যা নির্ধারণভিত্তিক শিক্ষা’ (Problem Posing Education) ও সংলাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানোই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এতে পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো মুখস্থ করার পরিবর্তে অভিনয়, আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা হয়।

‎১৫ সেপ্টেম্বর ত্রিশালের দুখু মিয়া বিদ্যা নিকেতনে ষষ্ঠ শ্রেণির শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ের ‘জীবনের জন্য খেলাধুলা’ অধ্যায় নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সুস্থ মন ও সুস্থ দেহ গঠনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয় তুলে ধরা হয়।

‎একই দিন ৬৪ নম্বর নজরুল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের মুনীর চৌধুরীর ‘কুপোকাত’ গল্প অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে অত্যাচারীকে বুদ্ধি ও কৌশলের মাধ্যমে প্রতিহত করার গল্প তুলে ধরা হয়।

‎১৬ সেপ্টেম্বর ৫৬ নম্বর চিকনা মনোহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ বিষয়ক নাটক পরিবেশন করা হয়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং সাপে কাটার পর প্রাথমিক ও পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়।

‎এদিন ত্রিশাল নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের উইলিয়াম শেক্‌সপিয়রের ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’ নাটক পরিবেশন করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। নাটকটিতে বন্ধুত্ব, প্রেম, লোভ, বুদ্ধিমত্তা ও ন্যায়বিচারের বিষয় তুলে ধরা হয়।

‎১৭ সেপ্টেম্বর ত্রিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের আলোকে ‘আমাদের ছোট সমাজ বড় দায়িত্ব’ নাটক পরিবেশন করা হয়। এতে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ঝড়ের কবলে পড়লে করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।

‎নাট্যপদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা প্রথমে গল্প ও বিষয়বস্তু বুঝে নেয়। পরে মহড়ার মাধ্যমে সংলাপ ও অভিনয় তৈরি করে দর্শকের সামনে তা উপস্থাপন করে। নাটক চলাকালে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও মতবিনিময়ের সুযোগও থাকে। ফলে পাঠ্যবিষয় বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

‎এ ধরনের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলা, প্রশ্ন করা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

‎দুখু মিয়া বিদ্যা নিকেতনের সহকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষাদান স্থায়ী ও টেকসই হয়। নাটক শিক্ষাপদ্ধতিতে দারুণ ভূমিকা রাখে এবং জটিল ও দুর্বোধ্য বিষয়গুলো সহজ করে।’

‎প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক নাটকের দর্শক শিক্ষক তানিয়া সিদ্দিকা বলেন, ‘পড়ার চেয়ে করে শেখা বেশি ফলপ্রসূ। হাতে-কলমে করা কাজগুলো মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয়।’

‎নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিমা আক্তার বলেন, ‘যে কোনো পড়া শিক্ষক পড়ানোর পর বাসায় নিজে পড়লে পরে পড়াটা বুঝতে হয়। কিন্তু নাটকটা একবার দেখেই বুঝে গেছি।’

কোর্স শিক্ষক ড. মো. কামাল উদ্দীন বলেন, প্রায়োগিক নাট্যকলা সরাসরি প্রয়োগের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থীরা তত্ত্বগত ধারণা অর্জনের পর আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে তারা স্কুল নির্বাচন, প্রেক্ষাপট রিসার্চ, বিষয় ও শিক্ষার্থী নির্বাচন, মহড়া ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সাদামাটা আয়োজনে পরিবেশনা সম্পন্ন করেন। এভাবে শিক্ষার্থীরা বুঝে-শুনে-দেখে-প্রয়োগ করে আনন্দের সাথে লেখাপড়ার পাঠ সম্পন্ন করে। এই শিক্ষা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত গণনাসর্বয় শিক্ষার পরিবর্তে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি