ঝালকাঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ও ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের | Daily AjKaler Kontho

ঝালকাঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ও ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের


মোঃ মাছুম বিল্লাহ, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ও ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

ঝালকাঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ইটভাটা, যানজট, অবৈধ স্থাপনা ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন অপরাধ ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন। তিনি বলেছেন, জেলায় কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। এরপরও কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন। জুলাই মাসের জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ঝালকাঠিতে কোনো বৈধ বালুমহাল না থাকলেও বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

সভায় ঝালকাঠি পৌর শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিকল্পনাবিহীন ভবন নির্মাণ বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ এবং অটোরিকশার লাইসেন্সের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চুরি-ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে সভায়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মামুন আল ইসলাম, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস ব্যাপারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডি, কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিরোধ বরণ জয়ধর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোস্তফা কামাল মন্টু, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহেব হোসেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিলারা জামান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আলম হোসেনসহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম ও জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি