শরীয়তপুরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন | Daily AjKaler Kontho

শরীয়তপুরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন


শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৮, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকে ও তাঁর দুই ভাই-বোনকে কয়েক ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর, গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে হাজি শরীয়তউল্লাহ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ভুক্তভোগীদের মা ফাতেমা বেগম (৪১) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্যা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ফারিয়া আক্তার (১৮) কে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন অভিযুক্ত মনির। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মনির মোল্লাকে একাধিকবার সতর্ক করে। ঘটনার দিন ৪ আগষ্ট সকাল ৮ টায় ভুক্তভোগী তরুণী তার বোন মারিয়া আক্তার (১৩) ও ভাই ফাহিম (৭) কে নিয়ে মনির মোল্লার মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন। এসময় অভিযুক্ত মনির তাদের দোকানের সামনেই ওই তরুণীকে নানাভাবে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এতে প্রতিবাদ জানালে মনির ওই তরুণী সহ তার ভাই-বোনদেরকে দোকানের পাশে ফৌজিয়া সরদারের বাড়ি নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে হাত-পা বিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে চুরির অপবাদ দিয়ে মনির, আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার সহ কয়েকজন গাছের সাথে বেঁধে প্রথমে মারধর করে, পরে মাথার চুল কেটে জুতার মালা পড়িয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুর ১২ টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ভুক্তভোগীদের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইতিমধ্যেই ভয়ে নিজেদের বাড়ী ছেড়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। আসামি পক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ফারিয়া আক্তার বলেন, মনির আমাকে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিতো। আমি এড়িয়ে যেতাম। ঘটনার দিন সকালে আমি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে আমাকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে সহ আমার ভাইবোনকে জোরপূর্বক দোকানের পাশে ফৌজিয়ার বাড়ীতে নিয়ে যায়। আমাকে পাশের রুমে নিয়ে জামাকাপড় খুলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে।

এ বিষয় অভিযুক্ত মনির মোল্লা বলেন, মারধরের বিষয়টি মিথ্যা। তারা আমার দোকানে চুরি করেছে। তাই স্থানীয়রা তাদের গাছের সাথে বেঁধে রেখেছে। আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার তার মাথার চুল কেটেছে। আমি এর সাথে জড়িত নই। কু-প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

তবে ভিডিওতে মারধর করতে দেখা যাওয়া অপর অভিযুক্ত আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি