
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটার পশ্চিম ধুলাসার এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পরকীয়ার জেরে এক ইমামকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নুরুজ্জামান গাজী বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর ৩৮৪/২৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার মাঝেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান গাজী ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে এক সন্তানের জননী খাদিজা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম ধুলাসার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি নগদ অর্থ, গবাদিপশু, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল শ্বশুর আব্দুল লতিফ ভূঁইয়ার কাছে প্রদান করেন। বিনিময়ে তাকে ১ দশমিক ২০ শতাংশ জমি দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ওই জমি খাদিজা বেগমের নামে রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে স্ত্রীর নামে থাকা ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে সংসার শুরু করেন নুরুজ্জামান। এদিকে, শ্বশুরের মৃত্যুর পর স্ত্রীর আগের সংসারের সন্তানকে তিনি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন এবং কন্যা সন্তানকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দিয়ে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার অর্থে ক্রয়কৃত জমির একটি অংশ তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলেও পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজনের প্ররোচনায় স্ত্রী ও তার স্বজনরা নুরুজ্জামানকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান। গত ১৫ মার্চ সকালে পশ্চিম ধুলাসার এলাকায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে তাকে আহত করা হয়। এমনকি গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান গাজী জানান, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি জমি লিখে দেয়ার জন্যও চাপ দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহিনতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটার একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
তবে মামলায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। খাদিজা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :