
নওগাঁর রাণীনগরে পৃথিলা সাহা (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার পারইল ইউনিয়নের গুডনিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ার প্রবাসী বাদল সাহার স্ত্রী। মৃত পৃথিলা জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের অনুকূল চন্দ্র মণ্ডলের একমাত্র মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে পৃথিলাকে বিয়ে করেন বাদল সাহা। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকই ছিল।
শুক্রবার (৪জুন) সন্ধ্যার আগে তারা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে গল্পগুজব করেন। এরপর বাদল সাহা স্থানীয় বাজারে যান। মাগরিবের নামাজের পরপরই তিনি খবর পান তার স্ত্রী অসুস্থ। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে ছুটে এসে তিনি পৃথিলাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
বাদল সাহা বলেন আমাদের মধ্যে কোনো টানাপোড়ন ছিল না। যখনই ও যা আবদার করেছে, আমি সাথে সাথে তা পূরণ করেছি। সন্ধ্যায়ও একসঙ্গে ভালো সময় কাটালাম, কিন্তু বাজারে যাওয়ার পরই এই খবর পাই।
এদিকে একমাত্র মেয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা অনুকূল চন্দ্র মণ্ডল। তবে এই ঘটনায় স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অনুকূল মণ্ডল বলেন, মৃত্যুর কিছু সময় আগেও আমার মেয়ে আমার সাথে ফোনে অনেকক্ষণ ধরে কথা বলেছে। ও আমার একমাত্র মেয়ে কোনো সমস্যা বা কষ্ট থাকলে অবশ্যই আমাকে বলতো।
আমার জামাই এবং জামাইয়ের বাড়ির লোকজন খুবই ভালো। তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু কেন যে এমন ঘটনা ঘটল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকারিয়া মণ্ডল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার অভিযোগ করেছে বাদল সাহার বড় ভাই পলাশ চন্দ্র সাহা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :