
নওগাঁর রাণীনগরে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগরে পশু কোরবানি ও চামড়া সংরক্ষণ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এক বিশেষ সচেতনতা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে উপজেলা হলরুমে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান ইউএনও।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ নাবিলা ইয়াসমিন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা.মোঃ মেছকাতুল জাবিদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহজাহান আলী, কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব চান খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছাঃ চন্দনা সারমিন এবং কাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম, চামড়া ব্যবসায়ী, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী বৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভার মূল আলোচনায় কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সুস্থ্য পশু কোরবানির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ধর্মীয় বিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুফতি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,যেকোনো কোরবানির পশু জবাই করার পর ইমাম বা হুজুরদের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির পশুর গোশত কিংবা চামড়া দেওয়া যাবে না। তবে সেবার বিনিময়ে বা সম্মানার্থে তাঁদের আলাদাভাবে ‘হাদিয়া’ বা নগদ টাকা প্রদান করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম গোল্লা ও আব্দুস সামাদসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁদের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে বলেন আমরা মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া কিনে ট্যানারিতে পৌঁছানো পর্যন্ত যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, সেই তুলনায় সঠিক মূল্য পাই না। তার ওপর ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা বাকি পড়ে থাকে, যার কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। এমনকি গত বছরের চামড়া বিক্রির বকেয়া টাকাও আমরা এখনো তুলতে পারিনি।
উপস্থিত কর্মকর্তারা চামড়া ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং কোরবানির চামড়া যেন সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও লবণজাত করা হয়, এ লক্ষে ব্যবসাীদের মাঝে ফ্রি লবণ বিতরণ করেন । একই সাথে পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় নির্দিষ্ট স্থানে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কোরবানির জন্য উপজেলার সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :