মেঘনা পাড়ে মাছঘাটের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীর আঙুল কর্তন | Daily AjKaler Kontho

মেঘনা পাড়ে মাছঘাটের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীর আঙুল কর্তন


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
মেঘনা পাড়ে মাছঘাটের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীর আঙুল কর্তন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীর বাম হাতের একটি আঙুল কর্তনসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাজু মোল্লার মাছঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ও হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ঘটনার পরও এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে গুরুতর জখম মনিরা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রাব্বি হোসেন (২২), ফরহাদ হোসেন (২৭), সুমন হোসেন (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (৩২)-সহ অন্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক শফি সরদার এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক সরদারের মধ্যে মাছঘাটের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শফি সরদার ও মহিউদ্দিন গাজী এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ফারুক সরদার ও যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ (বলি)। সংঘর্ষের আগে উভয় পক্ষই মাছঘাট এলাকায় দলবল নিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শফি সরদার অভিযোগ করেন, ফারুক সরদার, আবুল কালাম আজাদ (বলি) ও তারেক সরদারের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক সরদার বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা যৌথভাবে মাছঘাট পরিচালনা করে আসছি। আজকের ঘটনায় তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে পরে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।”

অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ (বলি) বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে। আমি বরং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।”

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ এপ্রিল একই উপজেলার উত্তর চরবংশী এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্পেনপ্রবাসী সাইজউদ্দিন দেওয়ান ও জসিম উদ্দিন বেপারী নিহত হন।