খানাখন্দে ভরা এলজিইডি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে | Daily AjKaler Kontho

খানাখন্দে ভরা এলজিইডি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে


দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ন
খানাখন্দে ভরা এলজিইডি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার থানা ব্রিজ থেকে মৌকরণ পর্যন্ত এলজিইডি সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের সর্বত্র সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ। ফলে প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করা স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়, যা যান চলাচলকে করে তুলেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অটোবাইক চালকরা থানা ব্রিজ-লাউকাঠী হয়ে শ্রীরামপুর বাজারের কাঁচা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

এদিকে, এই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র লুথার‍্যান হেলথ কেয়ার হাসপাতালেও যেতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে রোগী পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি রোগী নিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাওলাদার বলেন, “বৃষ্টির পর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। রিকশা-ভ্যান তো দূরের কথা, মোটরসাইকেল চালানোও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।” অটোবাইক চালক জলিল মৃধা জানান, “ভাঙা রাস্তায় প্রতিদিন গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।”

এ সড়কের এমন দুরবস্থার কারণে এখন অনেক রিকশা ও অটোবাইক চালক এই পথে যাত্রী নিতে চান না। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় হাজারো মানুষকে প্রতিদিন চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হুমায়ুন কবির মৃধা জানান, “সড়কটি মেরামতের জন্য আমরা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, “সড়কটি শুধু মেরামত নয়, প্রশস্তও করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে রাস্তার পাশে থাকা গাছ কাটার বিষয়ে এলজিইডি ও বন বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। জটিলতা নিরসন হলেই কাজ শুরু করা হবে।”

দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজকালের কন্ঠ/আর বি