দুর্নীতির খবর প্রকাশে ‘পাল্টা আঘাত’ : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার | Daily AjKaler Kontho

দুর্নীতির খবর প্রকাশে ‘পাল্টা আঘাত’ : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার


জামাল খান ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
দুর্নীতির খবর প্রকাশে ‘পাল্টা আঘাত’ : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক এমরান মেহেদী হাসান আরিফের দিকে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিকের দাবি, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই এমরান মেহেদী হাসান তাকেসহ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। এ কাজে তিনি কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে প্রায় ৯টি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ক্রাইম রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন মানিকসহ অন্তত ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও অশ্লীল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন এমরান মেহেদী হাসান আরিফ । শুধু অনলাইনেই নয়, বিভিন্ন পুরনো ছবি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিল্লাল হোসেন মানিকের এক যুগ আগের ছবি নিয়ে তা আওয়ামী লীগ শাসনামলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করা হয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককেও টার্গেট করা হয়েছে । তার ছবি বিকৃত করে ত্রিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করা হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন দপ্তরের হিসাবরক্ষক এমরান মেহেদী হাসান নিজে উপস্থিত থেকে পোস্টার লাগানোর তদারকি করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুক্তাগাছার বাসিন্দা আনিসুর রহমানসহ ময়মনসিংহের অন্তত ৭ জন সাইবার অপরাধীকে অর্থের বিনিময়ে এসব অপপ্রচারে যুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলছেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যাচার শুধু ব্যক্তি নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন।

সাংবাদিক নেতা মোহাম্মদ আলী আবির জানান, ময়মনসিংহের ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি একজন সরকারি কর্মচারী টাকার বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবো।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য, মিথ্যাচার বা অপপ্রচার চালানো হলে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ইতোমধ্যে একটি বিশেষ সাইবার টিম গঠন করেছে। কোনো ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কারও সম্মানহানি করা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, এ ধরনের সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর এস