বাংলাদেশে পার লিটারে ১৯ টাকা তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ কি স্বাভাবিক থাকবে | Daily AjKaler Kontho

বাংলাদেশে পার লিটারে ১৯ টাকা তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ কি স্বাভাবিক থাকবে


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে পার লিটারে ১৯ টাকা তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ কি স্বাভাবিক থাকবে

দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির সাথে সমন্বয় কিংবা অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার যুক্তি দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন অতিরিক্ত মূল্যপরিশোধের পর সেবা কি নিরবচ্ছিন্ন হবে? জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা যায়, এটা নির্মম সত্য।

কিন্তু মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেত যদি নিশ্চিত হওয়া যেত যে, পাম্পে গিয়ে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না কিংবা তেলের অভাবে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে না। যদি বাড়তি দাম দেওয়ার পরও তেলের জন্য হাহাকার থাকে এবং মূল্যবান কর্মঘণ্টা পাম্পের লাইনেই নষ্ট হয়, তবে এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল সাধারণ মানুষের কাঁধে একটি নতুন বোঝা হিসেবেই গণ্য হবে।

​গ্রামের চায়ের দোকানে এখন শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি নিয়েও আলোচনা চলে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে যে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব তাদের পকেটেও পড়ছে। তবে তাদের বিশ্লেষণ অত্যন্ত সহজ-সরল ও সোজাসাপ্টা: “বেশি দাম দিয়েও যদি তেল না পাওয়া যায়, তবে সেই দায়ভার শেষ পর্যন্ত সরকারকেই নিতে হবে।”

​বহুমুখী প্রভাবের শঙ্কা-জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়বে চেইন রিঅ্যাকশনের মতো: পরিবহন খরচ বাড়ার সাথে সাথেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। কলকারখানার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। পাম্প চালিয়ে সেচ দেওয়া কৃষকের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরাই এই দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবীরা কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান চরম সংকটের মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট মহলের মনে রাখা প্রয়োজন, জ্বালানির দাম বাড়ানো কোনো সমাধান নয় যদি না সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। সাধারণ মানুষ চায় স্থিতিশীলতা। অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে যদি সংকট সমাধান না হয়, তবে জনমনে অসন্তোষ বাড়াই স্বাভাবিক। এখন দেখার বিষয়, এই ত্যাগের বিনিময়ে সাধারণ মানুষ সত্যিকার অর্থে ভোগান্তিমুক্ত হতে পারবে কি না,এখন সেটা দেখার বিষয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি