আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, দুমকিতে শশুর-জামাতার বিরোধে উত্তেজনা | Daily AjKaler Kontho

আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, দুমকিতে শশুর-জামাতার বিরোধে উত্তেজনা


দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১১, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ন
আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, দুমকিতে শশুর-জামাতার বিরোধে উত্তেজনা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় শশুর-জামাতার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদি এলাকায় জোয়ারগরবদি মৌজার এসএ ৬৮/৬৯ এবং বর্তমান বিএস ৩৫৫ খতিয়ানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক রুস্তম আলীর ওয়ারিশদের কাছ থেকে পৃথক কবলা দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৪২ দশমিক ৭৫ একর জমি ক্রয় করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন হাওলাদার। পরে তিনি ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।

পরবর্তীতে একই খতিয়ানের অংশ থেকে নিজের মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের নামে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেন জাকির হোসেন। তবে জমির ভাগবণ্টন নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

এ ঘটনায় ২০২২ সালে জাকির হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে পটুয়াখালী জেলা যুগ্ম জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৩৫৯/২০২২) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীয় জমির ওপর আদালত স্থগিতাদেশ জারি করেন। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে আগামী ২৬ এপ্রিল।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফারুক হোসেন বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ফারুক হোসেন। তার দাবি, তিনি নিজের বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতেই বসতঘর নির্মাণ করছেন। পুলিশের নির্দেশনার পর নতুন কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি; শুধুমাত্র ঘরের ভেতরের কাজ চলমান রয়েছে। পূর্ব থেকেই সেখানে তার বসতবাড়ি ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় ডাকা হয়েছে। তারা উপস্থিত হলে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি