
শহরের অলিগলি, শপিংমল আর ঘরে ঘরে যখন ঈদের কোলাহল- নতুন পোশাক আর আনন্দে ভরে উঠেছে চারপাশ, ঠিক তখনই শরীয়তপুরের মাঝিরঘাটে ভিন্ন এক চিত্র।
পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা মানুষদের জীবনে নেই সেই আনন্দের ছোঁয়া- বাঁধের ওপর অস্থায়ী আশ্রয়ে তাদের ঈদ কেবলই দীর্ঘশ্বাস আর আফসোসের গল্প।
উপরে থেকে শান্ত মনে হলেও, এই পদ্মাই কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি আর জীবনের সঞ্চয়। নদীর তীরে সারি সারি পলিথিন আর টিনের ঘর- এখানেই আশ্রয় নিয়েছে ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো। অন্যের জমি কিংবা ভাঙনরক্ষা বাঁধই এখন তাদের শেষ ঠিকানা।
তেমনই একটি পরিবার স্বপন মাদবর ও শহর বানু দম্পতির। কয়েকদিন আগেও ছিল তাদের নিজস্ব ঘর, জমিজমা- সবই গিলে খেয়েছে নদী। এখন বাঁধের ওপর একটি ছোট্ট পলিথিনের ঘরেই চলছে তাদের জীবনসংগ্রাম।স্বপন মাদবর বলেন, একদিনেই সব শেষ হইয়া গেল। ঘর-বাড়ি, জমিজমা কিছুই আর নাই। এখন এই বাঁধেই থাকি, কিভাবে চলমু বুঝতেছি না।
তার স্ত্রী শহর বানু বলেন, ঈদ আসছে, কিন্তু বাচ্চাদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে পারি নাই। ঠিকমতো খাওয়াইতে পারি না, ঈদের আনন্দ কই থাইকা আসবো?দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে এই পরিবারটিকে। ঈদের আনন্দ নয়- তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা, কিভাবে চলবে আগামী দিন।
এই দম্পতির সন্তানের চোখেও নেই ঈদের উচ্ছ্বাস। অন্য বাচ্চারা যখন নতুন জামা নিয়ে ব্যস্ত, তখন সে তাকিয়ে থাকে নিরবে।এলাকার আরেক ভাঙনকবলিত বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছরই ভাঙে। ঘর বানাই, আবার নদীতে যায়। এখন আর কিছুই করার নাই।আরেকজনের ভাষায়, ঈদ আমাদের জন্য না। আমরা শুধু দেখি, অন্যরা আনন্দ করে।
শুধু স্বপন মাদবরের পরিবারই নয়- এমন শত শত পরিবার আজ মাঝিরঘাটের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিনিয়ত নদী ভাঙছে, আর ভেঙে দিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন।নদীর দিকে তাকিয়ে যেন তারা খুঁজে ফেরে হারিয়ে যাওয়া সেই ঠিকানা। উৎসবের এই সময়ে, যখন পুরো দেশ আনন্দে মেতে উঠেছে- তখন এই মানুষগুলোর জীবনে নেই কোনো কোলাহল, নেই আনন্দের আলো।
দিন শেষে নদীর তীরেই কাটছে তাদের জীবন- অনিশ্চয়তা, কষ্ট আর না-পাওয়ার গল্প নিয়ে।এই ঈদ কি ফিরিয়ে দিতে পারবে তাদের হারানো ঠিকানা? নাকি ভাঙনের স্রোতে হারিয়ে যাবে তাদের জীবনের প্রতিটি উৎসব।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :