আলীকদমে পুত্রবধূর হাতে শাশুড়ি খুন | Daily AjKaler Kontho

আলীকদমে পুত্রবধূর হাতে শাশুড়ি খুন


মো.জয়নাল আবেদীন, বান্দরবান প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ন
আলীকদমে পুত্রবধূর হাতে শাশুড়ি খুন

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা আলীকদম উপজেলা চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন কানামাঝি ঘাট এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নিহত রহিমা বেগম স্থানীয় আবু তালেবের স্ত্রী এবং আবদুর রহমানের মা।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ১০:০০ সময় প্রথম স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের করা জরুরি ৯৯৯ কলের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য দ্বন্দ্বকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত মায়ের দেখভাল নিয়ে আবদুর রহমানের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন আবদুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর মনোযোগ ও স্নেহের অসমতা নিয়ে সংসারে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন শাহ্ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াসমিন আক্তার স্বীকার করেছেন যে তিনি বঁটি দা দিয়ে নিজের শাশুড়িকে হত্যা করেছেন এবং ঘটনার দায় ছোট বউয়ের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

তিনি আরও জানান, চার ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর আবদুর রহমানের দুই স্ত্রী ও তাদের দুই সহযোগীকে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময়সীমার মধ্যে কারা বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের ছেলে আবদুর রহমান বলেন, আমার মা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। এমন অসহায় অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অলিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এলাকার বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন হৃদয় বলেন, পারিবারিক বিরোধ যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে তা কেউ ভাবেননি। মায়ের সেবা-যত্নে অবহেলা, সংসারের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্বামীর মনোযোগের অসমতা এবং দুই স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের মানসিক দূরত্ব পরিবারটিকে অস্থির করে তুলেছিল।

নিহত রহিমা বেগম এলাকায় সম্মানিত নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/জে