জাপার ঘাটি কুড়িগ্রামে জামায়াতের জয়-জয়কার | Daily AjKaler Kontho

জাপার ঘাটি কুড়িগ্রামে জামায়াতের জয়-জয়কার


আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন
জাপার ঘাটি কুড়িগ্রামে জামায়াতের জয়-জয়কার

জাপার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামের চারটি জাতীয় সংসদীয় আসনে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চার আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে তাদের জোট সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত ফলাফল শীট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. আতিক মোজাহিদ (মো. আতিকুর রহমান)। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট। ৯ হাজার ১২১ ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।

কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ ভোট। এখানে বিজয়ের ব্যবধান ১৮ হাজার ৬৫ ভোট। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৭ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। ২৮ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পান সালেহী। এই আসনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকার পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৭৮ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির মো. আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট। এখানে বিজয়ের ব্যবধান ২৩ হাজার ৭৮৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রুকুনুজ্জামান বালতি প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০২ ভোট। এই আসনেই সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন বাসদের শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, তার প্রাপ্ত ভোট ২০১।

জেলার চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাফিউর রহমান কুড়িগ্রাম-২ ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে লড়লেও দুটি আসনে তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৫৫৩টি।

নির্বাচনের আগে কুড়িগ্রাম-১, ২ ও ৩ আসনে বিএনপি ভালো ফল করবে বলে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপি বিজয়ের বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। তবে চূড়ান্ত ফলাফল সেই হিসাব পাল্টে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বে সমন্বয়হীনতা এবং কোন্দল এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তারা স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ পাননি। তবে সার্বিকভাবে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য, যা ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, চার আসনের তিনটিতে পরাজিত হলেও বিএনপি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে। ফলে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে তাদের ভোট ব্যাংকও কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, বিরোধী আসনে বসে বিজয়ী জামায়াত ও এনসিপি’র সংসদ সদস্যরা পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রামের উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কতটুকু সহযোগিতা আদায় করতে সক্ষম হন।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এর