কুড়িগ্রামের চারটি আসনে ত্রীমুখী লড়াই, নির্ধারক ভূমিকায় তরুণ ভোটার | Daily AjKaler Kontho

কুড়িগ্রামের চারটি আসনে ত্রীমুখী লড়াই, নির্ধারক ভূমিকায় তরুণ ভোটার


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের চারটি আসনে ত্রীমুখী লড়াই, নির্ধারক ভূমিকায় তরুণ ভোটার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনেই জমে উঠেছে বহুমুখী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির প্রভাব থাকলেও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় মাঠের লড়াই মূলত বিএনপি, জামায়াতের ১১ দলীয়জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মধ্যে কিন্তু জাতীয় পার্টী সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও নানা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

কুড়িগ্রাম জেলায় চারটি আসনে এবার মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার বেশি নারী ভোটার থাকায় নির্বাচনী সমীকরণে নারী ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। তবে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটাররা, যাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কুড়িগ্রামের আসনগুলোতে বেশিরভাগ সময় একক দলের আধিপত্য দেখা গেছে। মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একটি করে আসন পেলেও মূলত জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। তবে চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই দীর্ঘদিনের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।

কুড়িগ্রাম-১: নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয়দের মতে, এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. হারিসুল বারীও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় জনগণ এবং সাধারণ ভোটার মনে করেন কুড়িগ্রাম ১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা অবস্থান কম নয়।

কুড়িগ্রাম-২: কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-২ আসনে সবচেয়ে বেশি আটজন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। এখানে চতুরমুখী লড়াইয়ের আলোচনা থাকলেও বাস্তবে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট প্রার্থী,ও জাতীয় পার্টির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী মো. সোহেল হোসেন কায়েকবাদ এবং ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির প্রার্থী আতীকুর রহমান মোজাহিদ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-৩: উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের ধারণা, মূল লড়াই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ মোঃআক্কাছ আলী সরকার, ১১ দলীয় জোট জামায়াত প্রার্থী ব্যরীস্টার মাহবুব আলম সালেহীএবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জনাব তাসভীর- উল ইসলাম শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। উল্লেখযোগ্য যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকারের উপস্থিতিও শক্ত অবস্থানে আলোচনায় রয়েছে, কারন তিনি দীর্ঘ দিন ধরে উলিপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসিতেছেন। তিনি এলাকার যত রোগী যেতে সেখানে তিনি নিজের রোগী মনে করে চিকিৎসা সেবা দেন, এলাকায় বন্যা খরায় ও শীতে দুস্থ অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা প্রদান করেন,তিনি সাধারন মানুষ এবং দুঃস্থ অসহায় মানুষের সাথে সাধারণভাবে সদা হাস্যজ্জলভাবে তাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে পাশে থাকেন এর ফলশ্রুতিতে এলাকায় একটি ব্যাপক সাড়া জাগে যার ফলে গোটা উলিপুর উপজেলায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর পক্ষে,সরে জমিন ঘুরে দেখা যায় যে ১১ দলীয় জোট জামাতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র তাজভীর-উল ইসলামের চেয়ে তার অবস্থান অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে, যাহা সাধারন মানুষ ও ভোটার গনের মাঝে ব্যপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

কুড়িগ্রাম-৪: রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দুই সহোদর প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই। বিএনপির প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান এবং জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দুই ভাই হওয়ায় এলাকায় বাড়তি আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রৌমারী রাজিবপুর চিলমারী এই তিনটি উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম ৪ সংসদীয় আসন এই আসনের মধ্যে দুইটি উপজেলা ব্রম্নপুত্র নদীর ওপারে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, যেহেতু চিলমারী উপজেলায় একমাত্র প্রার্থী স্বতন্ত্র থেকে নমিনেশন নিয়ে বালতী মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করছেন এব্যাপারে সাধারণ ভোটার কর তার প্রতি আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থী চিলমারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সাধারণ ভোটের দোরগোড়ায় পৌঁছে ভোট প্রার্থনা করছেন,সরে জমিনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সাধারণ ভোটার গন এই এই স্বতন্ত্র প্রার্থী কে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শীর্ষে আছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে অনেকেই মনে করেন। ফলে এবার উন্নয়নবান্ধব, কার্যকর ও এলাকার সমস্যা সমাধানে সক্ষম নেতৃত্বকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে ভোটাররা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জেলার সর্বত্রই নির্বাচনী আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। চায়ের দোকান, বাজার ও সামাজিক আড্ডায় প্রার্থীদের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচন কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মোড় আনতে পারে। দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান ঘটবে কিনা, তা নির্ভর করবে ভোটারদের রায় এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।

আজকালের কন্ঠ/আর বি