রামগতিতে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

রামগতিতে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ৩:৫৩ অপরাহ্ন
রামগতিতে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ফসলি জমি থেকে নামমাত্র মূল্যে উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। জমির টপসয়েল সংগ্রহ করে বিভিন্ন ইটভাটা মালিক ও ভূমি ব্যবসায়ী ট্রাক ও ট্রলারে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে দেখা গেছে, বহু ফসলি জমিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জমি নিচু হয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আগে যেখানে বছরে দুই-তিনবার ফসল উৎপাদন করা যেত, এখন সেখানে চাষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।

একজন ভুক্তভোগী নারী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তার মালিকানাধীন ফসলি জমির উর্বর মাটি জোরপূর্বক কাটিয়ে ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না। আমার স্বামী নেই। এই সম্পত্তির বিরোধের কারণে আমার স্বামীকে শেষ করেছে। এখন আমার শেষ সম্বল জমিটাও শেষ করছে। আমি একজন অসহায় নারী। কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব—জানি না।”

স্থানীয় একজন শিক্ষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “দেশের সকল ইট তৈরির দায় মনে হয় রামগতি কাঁদে না হলে এই উপজেলায় এতগুলো ইটভাটা কোথাও নেই। প্রশাসন কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে এখন সব ডুবিয়ে দিয়েছে—মনে হচ্ছে আমাদের ধ্বংস দেখার জন্য।”

লক্ষ্মীপুরের পরিবেশবিদ শামছুল আলম ‘আলম শাইন’ বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটার ফলে শুধু কৃষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, মাটির উর্বরতা হারালে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়, জলে পলল সংরক্ষণ দুর্বল হয় এবং কৃষি উৎপাদনে আকস্মিক পতন ঘটে, যা আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করতে পারে। আলম শাইন পরিবেশ রক্ষায় এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, টপসয়েল ধ্বংস হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও পরিবর্তিত হয় এবং বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন প্রতিবেশগত সমস্যা অব্যাহত থাকে।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি