
ভেনেজুয়েলা উপকূলে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিকোলাস মাদুরো সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। ট্যাংকার আটক করার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্যাংকার আটকের ঘটনায় বাজারে সরবরাহব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার-দর ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬২.২১ ডলারে স্থির হয়। যদিও বৈশ্বিক বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম এখনো বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে রয়েছে। এএএ’র তথ্যমতে, গত সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৩ ডলারের নিচে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাংকার আটকের ঘটনায় জাহাজ মালিকদের ঝুঁকি বাড়তে পারে, পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের সমালোচক। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মাদুরোকে “এক ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসক” বলে অভিহিত করেন। মাদুরোকে পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা সে নীতির দিকেই এগোচ্ছি।
গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, মেরিন, ড্রোন ও গুপ্তচর বিমানসহ বিশাল সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি গত কয়েক দশকে অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় সামরিক মোতায়েন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া মাদকবাহী সন্দেহে ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে বহু নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে প্রয়োজন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো একটি মাদক পাচারকারী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদুরো। ট্রাম্প আরও জানান, তিনি সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন, এমনকি স্থলভাগে অভিযান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে বলে ইঙ্গিত দেন।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে মাদুরোর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্য দিলে পুরস্কার বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :