আটপাড়ায় চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই | Daily AjKaler Kontho

আটপাড়ায় চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই


সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ন
আটপাড়ায় চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

নেত্রকোনার আটপাড়ায় সোহাগ চৌধুরী (৪৫) নামে এক চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তিনি মোটরসাইকেলে করে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে আটপাড়া উপজেলার সুখাইর ইউনিয়নের বাউসা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোহাগ জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দীপুর গ্রামের মৃত মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে। সোহাগের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের লোকজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় সদস্যের সংসার চালাতেন সোহাগ। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। রাতে মদন থেকে যাত্রী নিয়ে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে আটপাড়া উপজেলার বাউসা হাওরে তাকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত সোহাগের স্ত্রী আজিদা আক্তার বলেন, মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে চার সন্তানসহ ছয় জনের পরিবারের ভরণপোষণ করতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এখন ছেলে মেয়েদের নিয়ে কিভাবে চলবো? দেড় বছর আগেও একবার সুনামগঞ্জের শাল্লা এলাকায় অজ্ঞান করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরে অনেক কষ্ট করে আবার মোটরসাইকেল কিনেছিল। এবার মোটরসাইকেল নিয়েছে, মানুষটাকেও মেরে ফেলেছে। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নিহত সোহাগের চাচাতো ভাই মো. বজলুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেড় বছর আগেও একবার সোহাগকে অজ্ঞান করে মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়েছিল। এবার তো তাকেই শেষ করে দিয়েছে। তার বাচ্চাগুলোর কি হবে আল্লাই ভালো জানেন। আমরা এই হত্যার সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।

আটপাড়া থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি