
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সংবাদ সম্মেলনে একটি পরিবার মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ সিকদারের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ কাইয়ুম আরজু। তিনি আহত জহিরুল ইসলাম মিরনের ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেন। “এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয় । অথচ ডিবির তদন্তে দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”
পরিবার অভিযোগ করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মহিপুর থানায় মিরনের নামে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হলেও সেখানে কোনো নির্দিষ্ট আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, “একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে রাজনৈতিকভাবে আমাদের পরিবারকে জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ৬ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ মামুনের বড় ভাই মোঃ ইলিয়াস হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে শারীরিক নির্যাতন করেছে এবং জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দী দিতে চাপ দিয়েছে। আদালত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রিমান্ড না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। এ ছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাবালক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। মামুন হাওলাদার পক্ষে কাইয়ুম আরজু বলেন, “যদি আমাদের পরিবারের কেউ প্রকৃতপক্ষে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে প্রমাণসহ তা প্রকাশ করা হোক। কিন্তু অযাচিতভাবে পুলিশ ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্বরান্বিত তদন্ত;
২. তদন্তে অনৈতিক ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা;
৩. মিথ্যা প্রচারণা ও মানহানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ।
অবশেষে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, সত্য ও সঠিক তথ্য প্রকাশ করে সহযোগিতা করার জন্য। সংবাদ সম্মেলন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়।
আজকালের কন্ঠ /এম /মিজান
আপনার মতামত লিখুন :