
কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই পরিবারটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্ম ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এর জেরে গ্রামবাসী সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে মুরাদনগর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল কড়ইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তফা বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসী এক হয়ে এই গ্রামকে মাদকমুক্ত করার শপথ গ্রহণ করি। অন্তত ৪০ বছর ধরে এই পরিবারটি এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি নানা অপকর্ম করে আসছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয় এক মেম্বারকে ঘুষি দিয়ে থুতনি ফুলিয়ে ফেলেছে। আরেক ছেলের পিঠে চারটি কামড় দেয়।
তিনি বলেন, সকালে গ্রামবাসীর পিটুনিতে দুই মহিলাসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরেকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সে বেঁচে আছে না মরে গেছে জানি না। গ্রামবাসী-এলাকাবাসী, চেয়ারম্যান, মেম্বার সবাই মিলে মাদককারবারীদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ আস্তে আস্তে জড়ো হতে থাকেন নিহতদের বাড়ির আশপাশে। এই এলাকার মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ চায়, এটাই মূল ঘটনা।
এদিকে তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান।
এ সময় তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ এলাকায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করলে জনগণের উচিত তাকে পুলিশে সোপর্দ করা। এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনো ভাবেই কাম্য নয়। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাধীন বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ী গ্রামে দুই নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন কড়ইবাড়ি গ্রামের জুয়েল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৫), তার ছেলে রাসেল মিয়া (২৮) ও মেয়ে জোনাকি আক্তার (২২)। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, রুবি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করতেন। এর জেরে আজ সকাল ৯টার দিকে এলাকাবাসী ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের গণপিটুনি দেয়, ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রকৃয়াধীন।
আজকালের কন্ঠ/রাহাত/শরীফ
আপনার মতামত লিখুন :