উদ্বোধনের দেড় বছরেও শুরু হয়নি সৈয়দুরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ | Daily AjKaler Kontho

উদ্বোধনের দেড় বছরেও শুরু হয়নি সৈয়দুরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৫, ৪:৩৮ অপরাহ্ন
উদ্বোধনের দেড় বছরেও শুরু হয়নি সৈয়দুরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ দেশের উত্তর জনপদে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক বছর ৭ মাস পার হলেও গ্যাস পায়নি এ জনপদের মানুষ। ঠিক কবে নাগাদ এ গ্যাস সরবারাহ শুরু হবে তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ। এ নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীসহ এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোগানে অনিশ্চয়তা ও কাজ বাকি থাকলেও তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ১৪ নভেম্বর। পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে এর উদ্বোধন করেন। মূলতঃ সেই সময় লোক দেখানো উন্নয়ন বাগাড়ম্বর প্রকাশে তথা ক্রেডিট নিতে এর উদ্বোধন করা হয়।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তর জনপদে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টিসহ বাণিজ্যিক ও অন্যান্য গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ‘বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জিটিসিএল।

প্রকল্পটিতে সরকার ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে জিটিসিএল এখানে ১০ কোটি টাকার ওপর খরচ করেছে। বাকি টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হুকুম দখল করা হয়েছে ৫৭৬ দশমিক ৩৭ একর জমি। ৩০ ইঞ্চি ব্যসার্ধে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।

এই গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন পাড়ি দিয়েছে ছয়টি নদী ও দুটি খাল। এসব নদী ও খালের দূূরত্ব আড়াই কিলোমিটার। এছাড়াও গ্যাস সরবারহের জন্য তিনটি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০০ এমএমএসসিএফডি (মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট পার ডে) ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল গ্যাস সাপ্লাই (সিজিএস), রংপুরে ৫০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন টাউন বর্ডার স্টেশন (টিবিএস) ও পীরগঞ্জে ২০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন টিবিএস।

পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ না হতেই তড়িঘড়ি করে উল্লেখিত তারিখে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে এর উদ্বোধন করেন। পরে রংপুরের পীরগঞ্জের নিয়ামতপুর চৌরাহাট এলাকায় গ্যাস স্টেশন প্রাঙ্গণে ফলক উন্মোচন ও গ্যাস প্রজ্বলন করেন পেট্রোবাংলার তৎকালীন চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার।

জানানো হয় পাইপলাইনের মাধ্যমে শিল্পখাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হবে। যা প্রথমে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এবং পরবর্তীতে রংপুরে সম্প্রসারিত হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিটিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি ও স্থানীয় গ্যাস দিয়ে দৈনিক সরবরাহ হচ্ছে ৩০০ কোটি ঘনফুট। প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকছে ১০০ কোটি ঘনফুটের মতো। এ ঘাটতি কাটাতে এরই মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি এলএনজি আমদানি চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। কিন্তু এখনো গ্যাসের অনুসন্ধান চালিয়ে নিকট ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর মতো আশা জাগানিয়া কোনো ফলাফল মেলেনি।

আবার এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের সংশয়। গ্যাসের জোগান নিয়ে এ অনিশ্চয়তা দূর করার আগেই সঞ্চালন লাইন নিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে জিটিসিএল। গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশায় এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বিনিয়োগে দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো এসব পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস যায়নি।

জাতীয় সংসদের নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সতন্ত্র সাবেক সাংসদ ও শিল্পপতি আলহাজ্ব মো: সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, গ্যাস সংযোগ পেলে উত্তরা ইপিজেডসহ সৈয়দপুরে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন সম্ভব হতো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। এখন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনছি, বাস্তবায়ন কিছুই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, গ্যাস সরবরাহের উদ্বোধন ছিল নিছক নাটক। উত্তর জনপদের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীসহ বহু উদ্যোক্তা পাইপলাইনের গ্যাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। গ্যাসের অভাবে শিল্পের সম্ভাবনাগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে।

এ নিয়ে কথা হয় পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক ও পিজিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফজলুল করিমের সাথে। তিনি বলেন, ডিস্টিবিউশন লাইনসহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কাজ শেষ করে শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/শাহজাহান