কুয়াকাটায় ইউএনও’র পদত্যাগের দাবিতে ফটোগ্রাফারদের ঝাড়ু মিছিল | Daily AjKaler Kontho

কুয়াকাটায় ইউএনও’র পদত্যাগের দাবিতে ফটোগ্রাফারদের ঝাড়ু মিছিল


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৫, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
কুয়াকাটায় ইউএনও’র পদত্যাগের দাবিতে ফটোগ্রাফারদের ঝাড়ু মিছিল

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সৈকতের স্টুডিও মালামাল জব্দ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফাররা। মঙ্গলবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুয়াকাটা মহাসড়কে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিছিলকারীরা কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন।

জানা যায়, পর্যটকদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে স্থাপিত অস্থায়ী ফটো স্টুডিও বন্ধে গত ১ জুন নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে নির্দেশনা অমান্য করে স্টুডিও চালু রাখায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক।
অভিযানে বেশ কয়েকটি স্টুডিও থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টার, আইপিএসসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম, সেনাবাহিনী ও মহিপুর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

স্টুডিও মালিকদের অভিযোগ, পূর্ব কোনো নোটিশ বা সময় না দিয়েই তালা ভেঙে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মালামাল জব্দ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। মালিকদের ভাষ্য, প্রায় ২৫টি স্টুডিও থেকে অন্তত ৩০টি কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক উপকরণসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইউএনও’র দুই গালে জুতা মারো তালে তালে”—এমন স্লোগান দেওয়া হয়।

স্টুডিও মালিক দোজাহান শেখ, কাওসার হাওলাদার ও সোহেল বলেন, “এটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে প্রকাশ্য লুটপাট। আমাদের কোনো কথা না শুনেই এমন বর্বর আচরণ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্টুডিও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মালামাল জব্দ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সৈকতে ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এই স্টুডিওগুলোর মাধ্যমে গড়ে ওঠা কমিশন বাণিজ্য এবং পর্যটক হয়রানি বন্ধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”