নেত্রকোনার পূর্বধলায় মা- মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ | Daily AjKaler Kontho

নেত্রকোনার পূর্বধলায় মা- মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০২৪, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোনার পূর্বধলায় মা- মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলায় রূপালী আক্তার (২৭) ও রুবাইয়া তাবাসসুম মুন (৭) নামের দুই মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পূর্বধলা থানার পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের চুরাটিয়া গ্রাম থেকে এ লাশ দুইটি উদ্ধার করা হয়।নি-হত রূপা আক্তার ওই গ্রামের রজব আলীর ছেলে মোস্তাকিনের স্ত্রী ও উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের বারহা গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে।

এদিকে, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলে দাবি করলেও; খাটের ওপর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার হওয়ায় নিহতের স্বজনরা মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক মনে করছেন। রূপালী আক্তারের বাবার দাবী পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

রূপালীর বাবা আব্দুর রশিদ জানান, গত ১০/১২ বছর আগে তার মেয়েকে বিয়ে দেন। মেয়ের জামাই ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কন্টোল রুমে কর্মরত। ইতোমধ্যে তার মেয়ের দুইটি মেয়ে সন্তানও হয়েছে। বেশ ভালই চলছিল।

সম্প্রতি তার মেয়ের জামাই মোস্তাকিন গ্রামের বাড়িতে তিনকাঠা জমি কিনেন। এই জমি থেকে মৌখিকভাবে মোস্তাকিনের ছোট ভাই হুমায়ুনকে ৪শতক জমি দেওয়ার পর দেখা দেয় তাদের দাম্পত্য কলহ। এক পর্যায়ে গত ১৫দিন আগে ওই কলহের জের ধরে জামাই মেয়েকে পিটিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর দুইদিন পর তিনি তাকে তার স্বামীর বাড়িতে রেখে যান। আজ সকালে শুনতে পান মেয়ে ও নাতির মৃত্যুর খবর।

.রূপালীর শ্বাশুড়ি আমেনা খাতুন জানান, তার পুত্রবধু প্রতিদিনের মতো তার ৭ বছরের মেয়ে রুবাইয়া তাবাসসুম মুন ও দুই বছরের মেয়ে তাহমিনা আক্তার মুনিয়াকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাতটা বাজলেও রূপালী বা নাতীরা ঘুম থেকে উঠছেনা কেন ? এই ভেবে তিনি তাদের ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরে খাটের ওপর বিছানায় রূপা ও রুবাইয়া তাবাসসুম মুন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ছোট মেয়ে তাহমিনা আক্তার মুনিয়া তার মৃত মায়ের পাশে বসে আছে।

রূপালীর স্বামী মোস্তাকিন তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, তার স্ত্রী সন্তান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গেছে।এ দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন নেত্রকোনা থেকে সিআইডি ও পূর্বধলা থানা পুলিশের একটি টিম। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মির্জা ফায়েম মাহমুদ জানান, নিহতদের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করা হয়েছে। গৃহবধু রূপালীর ডান হাতে আগুনের জ্বলসানো চিহ্ন, দুই পায়ের গোরালীর উপরে ও দুই হাতের কব্জির উপরে কালো দাগ এবং তার মেয়ে রুবাইয়া তাবাসসুম মুন এর ডান পায়ের গোরালী ও দুই হাতের কব্জির উপরে গোল কালো দাগ দেখা গেছে।