
মোঃ আরাফাত আলী (নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি) : নওগাঁর আত্রাইয়ে উৎপাদিত দেশীয় শুঁটকির কদর রয়েছে দেশজুড়ে। পুঁটি, খোলসানি, চান্দা, রাইখর, সাটিসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। তবে এ বছর দেশীয় মাছের অভাবে শুঁটকি উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
দেশের উত্তর জনপদের মাছের ভান্ডার আত্রাই উপজেলা। প্রতিদিন শত শত টন মাছ আত্রাই থেকে রেল, সড়ক ও নৌপথে বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হয়। সে অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদনে আত্রাইয়ে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ দেশের ১৫-২০টি জেলায় বাজারজাত করা হয় এখানকার মাছ। আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে শতাধিক পরিবার।
কিন্তু এবার মাছের আমদানি তুলনামূলকভাবে কম। দেশি মাছের দাম বেশি হওয়ার কারণে এসব শুঁটকি ব্যবসায়ীরা হতাশ। কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ায় অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন এ পেশা। গত বছরের তুলনায় এ বছর আত্রাইয়ে শুঁটকি উৎপাদন কম হয়েছে। এজন্য দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, এক মণ পুঁটি শুকিয়ে ১৫ কেজি, চার মণ টাকি থেকে এক মণ এবং তিন মণ খলিসা মাছ শুকিয়ে এক মণ শুঁটকি হয়। বর্তমানে শুঁটকি- ছোট পুঁটি ১৫০ টাকা, বড় পুঁটি ৪০০ টাকা, টাকি ৪০০-৪৫০ টাকা এবং খলিসা ২০০-২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহছান বলেন, ‘এবার পানি কম থাকায় মাছের সংকটে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রতি বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের আত্রাই এর শুঁটকির গুণগতমান অনেক ভালো ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় প্রতি বছর নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন শুঁটকি রপ্তানি হয় দেশে-বিদেশে।’
আপনার মতামত লিখুন :