দক্ষিন রায়ঘর এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মোঃ জালাল উদ্দিন তার সম্পত্তি দখল এবং পুলিশের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিন জানান, তার পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এই জমিতে বসবাস ও নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও আওয়ামীলিগ নেতা আব্দুস সুবহান ও তার সহযোগীরা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে তার জমি দখল করে।
তথ্যঅনুযায়ী, প্রথমবার সুবহান সশস্ত্র সহযোগীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে ২০২৩ সালের ১৫ ই সেপ্টেম্বর তাদের একটি জমি দখল করেন। এই সময় তার ছেলেরা বাধা দিতে গেলে সুবহান ও তার সহযোগীরা তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় তার ছোট ছেলে রুহেল আহমেদ (জমির মালিক) গুরুতর আহত হন।বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের সাহায্য চাইলে পুলিশ সুবহানের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সুবহান বিষয়টি জানতে পেরে উল্টো রুহেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দায়ের করে। একসময় রুহেল, সুবহানের নির্যাতন ও হুমকির মুখে নিজের জীবন রক্ষার্থে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ পুনরায় সুবহান তাদের আরও একটি জমি দখল করে নেয়। জনাব জালাল উদ্দিন স্থানীয় লোকজন নিয়ে তাঁকে বাধা দিতে গেলে সুবহান ও তার সহযোগীরা তাদের উপর হামাল করে এতে জনাব জালাল উদ্দীনসহ আরও দুই তিন গুরুতর আহত হন।হামলার ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশ জানায়, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সুবহানের বিরুদ্ধে তারা কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
এমনকি ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর পরিবারকে হয়রানি করে এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ১ লক্ষ টাকা পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা না করে আমাদেরই হয়রানি করছে এবং ক্ষমতাবানদের স্বার্থে কাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পয়েছে।”
বারবার থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আদালতে আব্দুস সোবাহানকে প্রধান আসামী করে এবং অন্যান্য ছাত্রলীগ যুবলীগ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।
দীর্ঘদিন ধরে হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়ে পরিবারটি এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জালাল উদ্দিন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে জানান, অবিলম্বে জমি দখল ও হয়রানি বন্ধ না হলে তার পরিবারের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।