বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি :- বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ও নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর ৬ নং ওয়ার্ড,খাস মহেশপুর,ডাল মারা, রামনগর গ্রামগুলোর কুমারপল্লীতে ঢুকলেই চোখে পড়ে গোটা পল্লীতেই যেন পহেলা বৈশাখ ঘিরে মাটির তৈরি আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মিৎ শিল্পের কারিগররা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও ব্যস্ততার কারণে এখন কাজে হাত লাগিয়েছে। মহেশপুরের পুরো গ্রাম জুড়ে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে খোলা মাঠে সড়কের দুই পাশে কাঁচা মাটির আসবাবপত্র তৈরি করে রোদে শুকাচ্ছে। আর প্রত্যেকটা বাড়িতেই মাটির চুলোতে কাঠ দিয়ে তাদের তৈরি মাটির আসবাবপত্র পুড়ছে। অনেকে আবার শেষ মুহূর্তে এসব মাটির আসবাবপত্রে রং তুলিতে রাঙিয়ে তুলছে।
পহেলা বৈশাখে মাটির সরাইয়ে (সানকি) তে পান্তাভাত খাওয়ার রীতি এখনো চালু আছে। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করছে বাকেরগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা। পহেলা বৈশাখ বাঙালির নববর্ষ। নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বসে বর্ষবরণ মেলা। সেই মেলায় চাহিদা থাকে নানা রকমের খেলনা, মাটির জিনিসপত্রের। মেলাকে দৃষ্টিনন্দন করতে মৃৎশিল্পীরা নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করতেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাঁড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, চুলা, ফুলের টবসহ মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র।
এখন কুমার পল্লীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে তাদের পছন্দমত মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
উপজেলার নিয়ামতি এলাকায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে এখনো জড়িত রয়েছে প্রায় ৩ শত পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবসহ মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এখনো। তাই এখানে পুরুষ মৃৎশিল্পীর পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।