Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ৯, ২০২৪ , ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

নড়াইলের লোহাগড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত মাংস ব্যবসায়ী হুমাই ঠাকুরের মৃত্যু

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

কাজী ইমরান, নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভাধীন লক্ষীপাশা চৌরাস্তা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত মাংস ব্যবসায়ী হুমায়ুন ঠাকুর ওরফে হুমাই ঠাকুর (৫০) ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ৯ টার দিকে মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায়।

নিহত হুমাই ঠাকুরের বর্তমান বাড়ি লোহাগড়া পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডের কচুয়াবাড়ি এলাকার মৃত. নিরু ঠাকুরের ছেলে। তার পৈতৃক বাড়ি ছিল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামে। তিনি মূলত পেশায় একজন মাংস বিক্রেতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ৩ দিন আগে লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষীপাশা ঢাকা বাস কাউন্টারের সামনে একজন ভ্যান চালকের সাথে কথা কাটি হয় রাজুপুর গ্রামের এক ব্যক্তির সাথে। ওই সময়েই স্থানীয়ভাবে ঘটনাটির মিটমাট হয়ে যায়। এর জের ধরে মঙ্গলবার (৫মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে লোহাগড়া পৌর এলাকার রাজাপুর গ্ৰামের কয়েকজন লক্ষীপাশা ঢাকা কাউন্টার এলাকায় এসে আবদুল্লাহ ঠাকুর শিপলা (২৪) ও রুমান (২৮) নামে দু’জনকে মারধর করে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আবারও দু’পক্ষের লোকজন লক্ষীপাশা চৌরাস্তা এলাকায় জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় লক্ষীপাশা মহিলা আদর্শ কলেজ গেটের সামনে থেকে আব্দুল্লাহ ঠাকুর ওরফে শিপলার পিতা হুমায়ুন ঠাকুরকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয়রা আহত হুমাই ঠাকুরকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিতা হুমায়ূন ঠাকুর ও ছেলে আব্দুল্লাহ ঠাকুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখান থেকে ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪দিন পর আজ শনিবার (৯মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে মাংস ব্যবসায়ী হুমায়ুন ঠাকুরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৬ মার্চ) নিহত হুমাই ঠাকুরের আপন ভাই মতিন শেখ বাদী হয়ে ১১ জনসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৭/৬১

আহত হুমায়ূন ঠাকুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে
লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, ওই ঘটনার মামলাটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। মামলার পরে পুলিশ লোহাগড়া পৌরসভার রাজুপুর গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে হায়াতুর শেখ ও একই গ্রামের হিরু শেখের ছেলে হামীম শেখকে গ্রেফতার করেছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রিন্ট করুন