Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ৪, ২০২৪ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

প্রতিনিয়িত গড়ছে মৃত্যুর রেকর্ড, অব্যবস্থাপনার শহরে অগ্নিনৃত্য

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : অব্যবস্থাপনার শহরে অগ্নিনৃত্য অবিরাম ছুটে চলছে নতুন রূপে। গড়ছে মৃত্যুর রেকর্ড। গত ১৪ বছরে রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে অন্তত ২৮৪ জনের। সরকারি সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল চোখ বন্ধ করে দায় চাপিয়েছে এদিকে-সেদিকে।

রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস এমন কি জনপ্রতিনিধিদেরও বিষয়টি খতিয়ে দেখার একই সুর। সেইসঙ্গে ‘আর কাউকে ছাড় না দেয়া’র কঠোর হুঁশিয়ারি। আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক বোমার মৃত্যুকুপ বসানোর মাধ্যমে মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম রুখতে ব্যর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।

রাসায়নিক বিস্ফোরণে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে মৃত্যু হয় ১২৪ জনের। ঠিক ৯ বছর পর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টায় একই রাসায়নিক বিস্ফোরণে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয় আরো ৭১ জন।

তোড়জোর চলে সুন্দর বর্ণমালা দিয়ে গাঁথা মিষ্টি কথায়। কিন্তু, সমাধান বা অপরাধের বিচারের দৃষ্টান্ত তৈরি হয় না।

চুড়িহাট্টায় লাশের মিছিল থামানো নিয়ে খুব তৎপর হওয়া সরকারি সংস্থা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের শোনানো আশা হতাশায় রূপ নেয় ঠিক এক মাস পর ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ। বনানী এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় মৃত্যুর হয় ২৬ জনের।

একই কথা আর একই সমাধানের আশ্বাস ২০২৩ সালে সিদ্দিক বাজারের আগুনের ঘটনায়ও। প্রাণহানির পরই সামনে আসে ভবনের ত্রুটি। সারা বছর যেন সবই বৈধ।

আগুনের ঘটনার জন্য ভবন মালিক কিংবা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের গ্রেফতারের সংস্কৃতি আরো বাহবা দিচ্ছে জবাবদিহীতার আওতায় না আনা রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। যা নিয়ে মুখ খুলেছেন গণপূর্ত বিভাগের সাবেক এক মন্ত্রী।

কারো মৃত্যুই কাম্য নয় এই কথা বলে শুধু ক্ষমা চাওয়া ছাড়া দৃশ্যমান ভূমিকায় দেখা মেলেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। এককভাবে দায় নিতে নারাজ ঢাকা দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা।

বেইলি রোডে ৪৬ জনের মৃত্যুর পর ভবন গড়ার নির্দেশদাতা রাজউক আর ব্যবসার লাইসেন্স দেয়ার কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশন নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে পুরাতন স্টাইলে সরব। ফাইলে বন্দী থাকা তদন্ত প্রতিবেদন আর প্রকাশ্যে ঘুরতে থাকা অপরাধীরাই বলে দেয় অব্যবস্থাপনার ফাঁকে ঘটে চলা আগুন নৃত্য থামবে কবে?

প্রিন্ট করুন