Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪ , ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

পর্যটন উন্নয়নে কুয়াকাটায় বিমানবন্দর করার উদ্যোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা থেকে দেখা যায় অপরূপ সূর্যাস্ত। আর তা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দেশী পর্যটক। এছাড়া কুয়াকাটার অপরূপ সৈকত এবং দর্শনীয় স্থান থাকলেও বিদেশী পর্যটকদের তেমন আনাগোনা অন্যান্য পর্যটন এলাকার মতো ছিল না। তাই আন্তর্জাতিক পর্যটক টানতে একটি বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন ভিত্তিক শীর্ষক প্রকল্প এলাকায় বিমানবন্দরের স্থান চিহ্নিত করতে প্রাথমিক পরিদর্শন করেছে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্য প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শনের পর প্রতিবেদন দেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের টিম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে সরকার। এর মাধ্যমে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। সেজন্য সেবার আগে কুয়াকাটার যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। সেতু ও মহাসড়কের পর বিমানবন্দর নির্মাণ করার জন্য জমি পরিদর্শন করা হবে।

কুয়াকাটা বিমানবন্দর জমি পরিদর্শনের বিষয়ে বেবিচকের একজন কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য কুয়াকাটায় জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিদর্শনের পর টিমের মতামত ও পরামর্শ অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুতই এ কাজ শুরু করা যাবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেছেন, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার পর থেকেই দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। সেই উপলক্ষ্যে কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেলও বেড়েছে। এ অবস্থায় একটি বিমানবন্দর নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও উপভোগ করতে পারবে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। অর্থসংস্থান করতে পারলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর নির্মাণ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, বন্দর নগরী পায়রা ও কুয়াকাটায় যাতায়াত সুবিধা উন্নত করার জন্য এর আশপাশে বিমানবন্দর নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বিমানবন্দরের স্থান নির্ধারণের জন্য তথ্য চেয়ে এরই মধ্যে বেবিচকের কাছে চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বেবিচককে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘পায়রা বন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এলাকায় বিমানবন্দরের স্থান চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে তথ্য প্রেরণের জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ তথ্য চাওয়া হয়। প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিমানবন্দর স্থাপনের লোকেশন চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে তথ্য প্রেরণ করতে বলা হয়।

জানা গেছে, কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ বহু আগে শুরু হলেও মূলত ১৯৯৮ সাল থেকে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত কুয়াকাটা সৈকত ধীরে ধীরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। পর্যটকদের কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল। এ কারণে বেড়েছে প্রশাসনিক নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা। সৈকতের কোলঘেঁষে রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল।

সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বন, লেম্বুর বন, নারিকেলবাগান, ঝাউবাগান, গঙ্গামতী ও কাউয়ার চরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এর মধ্যে অন্যতম। পর্যটকরা কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি সমুদ্রের কোলঘেঁষা বনাঞ্চল ঘুরে ছবি তোলেন। কিন্তু আকাশপথের সুযোগ না থাকায় দেশ ও বিদেশের পর্যটকরা আসছেন না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। এখানে সড়কপথের যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলেও আকাশপথের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। বিমানবন্দর হলে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে।

প্রিন্ট করুন