বিশেষ প্রতিনিধিঃ-সুনামগঞ্জে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় ওয়াজ মাহফিলের তারিখ নির্ধারণে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মৃতঃডুমাই উল্লার পু্ত্র আহত ছমির মিয়া(৬৫)নিহতের ঘটনায় ২৮(জানুয়ারি)রোববার রাতে শাহ জামান উল্লা (মুক্তার)বাদী হয়ে ৪২জনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক ওই রাতে সাব-ইন্সপেক্টোর অলক দাসের নেতৃত্বে পুলিশদল এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম এলাকা থেকে এজহারভূক্ত তিন আসামী নোয়াগাঁও গ্রামের রইছ উল্লার পু্ত্র বাদশা মিয়া(৫৫)বাদশা মিয়ার পু্ত্র শাকিব মিয়া(২০)ও একই এলাকার তুতা মিয়ার পু্ত্র অপু মিয়া(২০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান,গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে ২৯(জানুয়ারি)সোমবার সুনামগঞ্জ জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।বাকীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গতঃউপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলমপুর (নোয়াগাঁও)এলাকায় ফোরকানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আগামি ১৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা হয়।
এ,নিয়ে ২৬(জানুয়ারি)শুক্রবার জুমার নামাজের পর নোয়াগাঁও ফোরকানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এক বৈঠকে বসেন এলাকার মুরব্বিয়ানরা। আলোচনার মধ্যে এক পর্যায়ে নির্ধারিত তারিখ নিয়ে মসজিদের মোতাওয়াল্লি হান্নান মিয়া ও গ্রামের মুরুব্বি মুক্তার মিয়া মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়।কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামের খেলার মাঠে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংর্ঘষে লিপ্ত হন। এ-সময় দু”পক্ষের প্রায় ২৭ জন আহত হন।
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।এরমধ্যে ৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম,এ,জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রক্তক্ষয়ী সংঘাতে আহতের একদিন পর রোববার বিকেলে মুক্তার মিয়ার পক্ষের লোক নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ডুমাই উল্লাহের পু্ত্র ছমির মিয়া(৬৫)সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।