নড়াইল প্রতিনিধিঃআসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলে নৌকার দুই প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা ও বি.এম. কবিরুল হক মুক্তির জয়জয়কার অবস্থা।
গতকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নড়াইল – ১ ও নড়াইল – ২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা যায় মানুষের মধ্যে নির্বাচনী উৎস-আমেজ জমে উঠেছে।
এই দুই আসনের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় নড়াইলের মানুষ নৌকার উপর বিশ্বাসী। তারা কোন ব্যক্তিকে নয়, সকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগ, সেই আদর্শকে ধারণ করে বারবারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর ভরশা করে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলে নৌকার উপর ভরশা রাখতে চাই।
নড়াইলের দুইটি আসনে নৌকার প্রার্থী দু’জনই হেভিওয়েট প্রার্থী। এ দুইটি আসনে লড়াই হচ্ছে বাঘ ও খরগোশের মধ্যে। এই দুইটি আসনে যারা নৌকার বিপরীতে নির্বাচন করছেন, এলাকার মানুষ অনেক প্রার্থীকে চেনেনই না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুইটি রাজনৈতিক দলকেই চেনেন জানেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসছেন না। সেহেতু এই নির্বাচনে নৌকার বিকল্প অন্য কাউকে নিয়েই ভাবছেন না এলাকার জনগণ।
যেমনটি, নড়াইল – ১ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী বি এম কবিরুল হক মুক্তি এই আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তাদের পরিবারের রয়েছে ব্যপক জনপ্রিয়তা। এমপি হওয়ার আগে মুক্তি পৌর মেয়রও ছিলেন। তার পিতা মরহুম ইখলাস উদ্দীন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই কাছের একজন মানুষ। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। মরহুম ইখলাস উদ্দীন এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এজন্য নড়াইল -১ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকার সকল মানুষ মুক্তির উপর ভরশা রাখতে চাই।
অন্যদিকে, নড়াইল – ২ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী দেশের সফল ক্রিকেটার ও সফল ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফি একজন খেলোয়াড় হিসেবে রয়েছে দেশ-বিদেশে সবার কাছে আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা মাশরাফির উপর বিশ্বাস রেখে নড়াইল -২ আসনে নৌকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নড়াইলের মানুষের কাছে আবেগ-ভালবাসার এক নাম মাশরাফি। মাশরাফি দেশ বিদেশেও যেমন জনপ্রিয়। নড়াইলের মানুষের কাছেও তেমনই জনপ্রিয়। কারন তিনি প্রথমবার এমপি হয়ে নড়াইলে ব্যপক উন্নয়ন করেছেন। সেটি স্বাধীনতার পর থেকে অন্য কোন এমপি কখনো করে দেখাতে পারেনি। এর জন্য এলাকায় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এ কারণে নড়াইল – ২ আসনের জনগণ মাশরাফির বিকল্প কাউকেই মনে করছেন না। মাশরাফি রাজনীতিতে নেমে প্রথম নির্বাচনে যেমনটি ছক্কা হাঁকান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ছক্কা হাঁকাবেন বলে এলাকার মানুষ মনে করছেন।যার কারনে নড়াইল – ২ আসনের মানুষ মাশরাফির উপর ভরশা রাখতে চাই।
এবারে নড়াইল – ১ আসনে ৭ জন প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লড়াইয়ে রয়েছেন তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী বিএম কবিরুল হক মুক্তি (নৌকা), তার স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী চন্দনা হক (ঈগল), জাতীয় পার্টির মিল্টন মোল্যা (লাঙ্গল), ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম (হাতুড়ি), তৃণমূল বিএনপির শ্যামল চৌধুরী (সোনালি আঁশ) ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) শামীমা পারভীন ইয়াসমিন (বাইসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সিকদার মো. শাহাদাত হোসেন (দুলু) (মাথাল)।
এদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বি এম কবিরুল হক মুক্তির স্ত্রী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চন্দনা হক গত ১৯ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বামীকে (নৌকা) সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
নড়াইল – ১ আসন একটি পৌরসভা, ১৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত । এর মধ্যে কালিয়া উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়ন ও নড়াইল সদরে ৬ টি ইউনিয়ন রয়েছে। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনের মধ্যে নড়াইল-১ (কালিয়া- নড়াইল সদরের একাংশ) আসনে একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নের মোট ভোটার ২,৭৫,৪০৩ জন। এরমধ্যে ১,৩৯,০১০ পুরুষ এবং ১,৩৬,৩৯৩ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
অন্যদিকে, নড়াইল – ২ আসনে ৮ জন প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লড়াইয়ে রয়েছেন তারা হলেন,আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা (নৌকা), ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমান (হাঁতুড়ি), স্বতন্ত্র সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু (ট্রাক), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান (লাঙ্গল) এনপিপির মোঃ মনিরুল ইসলাম (আম) গণফ্রন্টের মোঃ লতিফুর রহমান (মাছ), স্বতন্ত্র মোঃ লায়ন নুর ইসলাম (ঈগল) ইসলামী ঐক্যজোটের মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মিনার)
বুধবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নড়াইল সদর উপজেলা শহরের মহিষখোলায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যার কারণ জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন।। তিনি লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
নড়াইল – ২ আসন দুটি পৌরসভা, ২০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়ন ও নড়াইল সদরে ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনের মধ্যে নড়াইল – ২ (লোহাগড়া – নড়াইল সদরের একাংশ) দুটি পৌরসভা ও ২০ টি ইউনিয়নের মোট ভোটার ৩,৬৫,৭৩৭ জন। এর মধ্যে ১,৮২,০২৩ পুরুষ ভোটার ও ১,৮৩,৭১১ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন।