আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ দিন ধরে এমভি রনি-১ নামের একটি মাছ ধরা ট্রলারসহ ২০ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ১৫ দিনেও সন্ধান না পাওয়ায় তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবারের লোকজন। অনেকে মনে করছেন ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে তলিয়ে গেছে ট্রলারটি।
শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এমভি রনি-১ ট্রলারের মালিক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, এমভি রনি-১ ট্রলারের মাঝি জাহাঙ্গীর (৪০), শেখ ফরিদ (৫৫), সিদ্দিক (৪৫) ও শামীম (২৩) আলাউদ্দিন (৫৬), আবুল খায়ের (৬৫), বাতেন (৪০),ইয়াসিন (৩৫), জয়নাল আবেদীন (৭০), মিলন (৩৫), ইসলাম আলী (৫৫), ফিরোজ (৪৫), সোহাগ (৪৫), আলাউদ্দিন (৪১), সোহাগ আখন (৩৬), সুমন (৩০), আবুল কালাম (৬৪), আজাদ (৩৫), ইয়াকুব আলী (৬০), নুর র্সদার (৫৫)। এদের সবার বাড়ি মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর রাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের জন্য মনপুরা থেকে প্রায় অর্ধশত মাছ ধরা ফিশিং বোট সাগরে যায়। এসব মাছধরা ট্রলারের সঙ্গে নিখোঁজ ট্রলারটিও মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা বাজার লঞ্চঘাট থেকে সাগরের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। নিখোঁজ ট্রলারটির মালিক দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা মৃত আমির হোসেন এর ছেলে মো. আক্তার হোসেন মাঝি। উক্ত নিখোঁজ এমভি রনি-১ ট্রলারটিতে মাঝিসহ মোট ২০ জন জেলে ছিল। এরপর ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে অন্য মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে উপকূলে আসলেও ওই ট্রলারটি উপকূলে ফিরে আসেনি। ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’র পর থেকে ওই ট্রলারটির কোন প্রকার খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি এবং কোন যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি। ট্রলারে থাকা মাঝিসহ সকল জেলেদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
তবে গত ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে এমভি রনি-১ ট্রলারের মাঝি জাহাঙ্গীর এর সঙ্গে অন্যান্য মাঝিদের সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। তখন সাগরে ড্রাম বয়ার কাছে মাছ শিকার করছিল তারা। পরদিন ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাব শুরু হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয় বলে জানায় মালিকপক্ষ। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে ট্রলার মালিক মো. আক্তার হোসেন এর ভাই আবুল হোসেন ও মনিরের দু’টি মাছধরা ট্রলার বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের খুঁজতে যায়। খোঁজাখুঁজি শেষে জেলেদের না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রলার দু’টি জনতা বাজার ঘাটে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসি।
নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার (৩ নভেম্বর) মনপুরা থানায় এসে নিখোঁজ ট্রলার এমভি রনি-১ এর মালিক মো. আক্তার হোসেন একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। স্বাভাবিকভাবে ৬-৭ দিনের মধ্যে মাছ ধরে তীরে ফিরে আসার নিয়ম থাকলেও ১৫ দিনেও ট্রলারসহ জেলেরা ফিরে না আসায় তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে ২০ জেলে নিখোঁজের ঘটনায় জেলে পবিারগুলোতে শোকের মাতম বইছে। আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে জেলেদের আত্মীয়-স্বজনদের করুন আহাজারিতে।
নিখোঁজ জেলে শেখ ফরিদের স্ত্রী কুলসুম বেগম জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মালিক পক্ষ সাগরে মাছ ধরার জন্য বাধ্য করে জেলেদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
নিখোঁজ জেলে বাতেনের স্ত্রী আকলিমা বলেন, সাগরে যাওয়ার পর থেকে আমাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নাই। আমরা তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি।
বঙ্গোপসাগের নিখোঁজ ট্রলার এর পাশে থাকা শিপন মাঝি জানান, সাগরে বাতাস যখন বাড়ছে তখন রেডিও খুলে শুনি, সাত নাম্বার বিপদ সংকেত। সঙ্গে সঙ্গেই নিখোঁজ ট্রলারের জাহাঙ্গীর মাঝিকে সাগরে পাতা জাল টেনে কুলে ফেরার কথা চিৎকার করে বলি। পরে আমরা জাল টেনে ঘাটের দিকি চলে আসি। পেছন থেকে আর সে ট্রলারটি দেখা মেলেনি। তবে অনেকের ধারণা, ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাবে সাগরে ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে।
এদিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ঘাটে অপেক্ষা করছেন নিখোঁজ জেলে পরিবারের সদস্যরা।