নিজস্ব প্রতিনিধি :বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান ১৯৭২ সনের ১৯ এপ্রিল, বাংলাদেশ কৃষক লীগ গঠন করে ২ জন, স্বনামধন্য আইনজীবী,জনাব, আব্দুর রব সের্নিয়াবাদ ও ব্যারিস্টার বাদল রশীদ এর উপর দাইত্তো দিয়েছিলেন। তিনি কি কারনে এমন দুজন খ্যাতিমান আইনজীবী উপর কৃষক লীগের দাইত্তো দিয়েছিলেন তা তিনিই ভাল জানতেন। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হযেছে, একটা কারন হয়তো থাকতে পারে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমি ব্যবস্থার যে বহু জটিলতা তা থেকে উত্তরণের পথ বের করাও তার একটা বিরাট চ্যালেঞ্জও ছিল। এখানে আমার একটি ব্যাক্তগত ঘটনা আনবো । এ কে বদরুল হক বাচ্চু, অবিভক্ত পুর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সূপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী ছিলেন । তিনি, আমার সিনিয়র ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ সূপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিও হয়েছিলেন। তিনি একজন ভাল এবং অনেক উচু মানের আইনজীবী ছিলেন। Civil Procedure Code এবং Criminal Procedure Code সহ অনেক আইন, তার মুখুস্ত ছিল। কিম্তু ভূমি আইন বা মুসলিম আইন এর কোন বিষয় হলেই, তিনি আমাকে খবর দিতেন এবং আমার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতেন। আসলেই আমাদের দেশের ভূমি আইন এবং ভূমি ব্যাবস্থাপনা অনেক জটিল বিষয় যা আরও সহজ হওয়া উচিত, সংস্কার হওয়া উচিত।
মূলত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ,লর্ড কর্নওয়্লিস এর আদেশে , এদেশে চিরস্থায়ী বন্দবস্থোর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা চালু হয়েছিল এবং সে ধারাবাহিকতায় এদেশে যে ভূমি ব্যবস্থা চলে এসেছে এবং যা বিভিন্ন সময় অনেক পরিবর্তন হযেছে । তারপরো, এখনো দেশে ভূমি ব্যবস্থার কোন পুর্ণরূপ আসেনি। ফলে জমির মালিক এবং কৃষককুল, কৃষি উত্পাদনে সমস্যায় আছে। যদিও বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা, এদেশে কৃষি উত্পাদনে এক বিরাট বিপ্লব সাধন করেছেন, যা হিসেবে নেয়ার মত বিরাট বিষয়। তারপরও আমাদের অনেক দুর যেতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ২০৪১ এর বাংলাদেশে । আর এজন্য সকলকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর যার মুলে যেতে হবে, সেটা হচ্ছে, ভূমি ব্যবস্থাপনায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে বিগত সময়, বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় এবং জমি বিক্রয় দলিলের আমূল সংস্কার হয়েছে। এখন জমির দলিল হয়, একটি নিদ্দিষ্ট ফরম আকারে এবং স্বল্প পরিমান টাকার স্টাম্প এ। জমির মুল রেজিস্ট্রেশন ফি, ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদি, চালানের মাধ্যমে ব্যাঙ্কে জমা দিতে হয়। অথচ এই সহজ কাজ গুলো দীর্ঘ দিন ধরে জটিল ভাবে চলছিল। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে চলছিল, সেই নিয়মটি। যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারই এ বিপ্লবটি সাধন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়মটা চলছিল, সেটা হল, রেজিস্ট্রেশন এর জন্য এক গাধা স্টাম্প উঠাতে হতো, আবার সেগুলো হাতে লিখতে হতো। ফলে এক দিকে স্টাম্প জালিয়াতি হওয়ার সুযোগ ছিলো, স্টাম্প ভেন্ডারদের ব্যবসা, জাল স্টাম্প এর ব্যাব্সা এবং সে গুলো লেখ্তে ডিড রাইটারদের বড় ব্যাবসা হতো । আবার দলিলের নকল উঠাতে ঐ নকলনবিশদের ব্যাবসা, ডিড রাইটারদের ব্যাবসা। আর ঐ নির্দিষ্ট ফি গুলো বাদে “আনঅফিসিয়াল ফি” কতো হতো তার হিসেব আমার হাতে নেই। চিন্তা করা যায়, যুগের পর যুগ, কতো মানুষের কতো টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে,কতো অপচয় হযেছে । আর যার প্রধান অংশ যেতো কৃষি জমির মালিক আর সাধারন কৃষকের পকেট থেকে ! । এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জরিপ, নামজারি, আরো কতো কি। আর এই সব সমস্যা মাথায় রেখেই কৃষকদের, কৃষিপণ্য উত্পাদন করতে হতো। এরপর বাজারজাত করা , সেতো আরেক বিরাট সমস্যা। আজকে সেই দীর্ঘদিনের জম্জালকে বিদীর্ণ করে, এইসময, সমসাময়িক বিশ্বের শ্রেষ্ট কৃষকদরদী, শেখ হসিনা,সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে থেকে, ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ কে, খাদ্য উদ্বৃত্তের বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। আর এটা এমনে এমনই হয়ে যায়নি। কৃষকরত্ন শেখ হসিনা এখনও নিরন্তন চেষ্টাই করে যাচ্ছেন,তার স্বপ্ন ” ৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ “গড়ার জন্য ।তাই আমাদেরকেও আরও অনেকদূর হাটতে হবে। এখনও এদেশের মানুষকে নগদ টাকায় জমি ক্রয়ে, কতো বার ভাবতে হয়, জালিয়াতিতে পরলো কি, সঠিক জমিটা পেলো কিনা। কেনার পর দখল নিয়ে সমস্যা হবে কিনা, নামজারি হবে কিনা । ইত্যাদি কতো কি। এমন কি আপনার নিজ নামের জমি, ছেলেকে দান বা বিক্রয় করলেন, তখনও নামজরি করা কতো সমস্যা তা ভুক্তভোগীরাই বোঝেন। কথাছিলো, আপনি যখন কোন জমি কেনবেন, তখন দলিল রেজিস্ট্রেশন এর সময়, দলিলের সাথে যে নোটিশটা লাগানো থাকে, সে মোতাবেক আপনার নামে অটোমেটিক নামজারী হয়ে যাবে। সে মোতাবেক আপনি খাজনা দেবেন । কিন্তু আমরা আসলে কি তা পারছি। সে জন্যই বলছি,আমাদের সকলকে জননেত্রির ঐ নিরন্তন কাজকে এগিয়ে নিতে হবে এবং তা সম্ভব হবে এই কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে। আর আমরা বিশ্বাস করি, জননেত্রী শেখ হসিনা শুধু স্বপ্নই দেখান না, স্বপ্ন বাস্তবায়নও করেন।
লেখক : এডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা
আজকালের কন্ঠ /এমএম