Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৩:১৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ১৪, ২০২০ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ

আমরা কৃষি ও কৃষকের পক্ষে শামসুল হক রেজা:পর্ব ৩

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন “সোনার বাংলা”শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক শ্লোগান ছিলো না। ৪৭ সনে পাকিস্তান স্বাধীনতার পর থেকেই তার মুল লক্ষই ছিল, এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে। আর তার “সোনার বাংলার” চেতনাটি ওখান থেকে শুরু। ঐ সময় তত্কালীন পুর্ব পাকিস্থানের বেশির ভাগ শিল্প ও বানিজ্য পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রনে ছিলো আর সরকার ছিলো শাষণ ও শোষণের হাতিয়ার । এদেশের মানুষের কৃষিই ছিলো প্রধান এবং সবচেয়ে বড় ভরসা। ১৯৪০ সনের শের-এ- বাংলা এ কে ফজলুল হক এর ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের আলোকে ১৯৪৭ সনের,তথাকথিত পাকিস্থানের ভৌগলিক স্বাধীনতার পরেই,বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, ঐ স্বাধীনতা ছিল আসলেই একটা অর্থহীন ভৌগলিক বিভক্তি মাত্র । তাইতো বঙ্গবন্ধুর শুরুটা ওভাবেই ছিলো। ৪৭ থেকে ৬৬ এ পাকিস্থানের সময়টা ছিলো অনেক ঘটনা বহুল সময়। কায়দে আজম মহম্মদ আলী জিন্নার, উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা ঘোষনা, ৫৪ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট, যুক্তফ্রন্ট এর বিজয়ের পর সরকার গঠন হলেও অল্প কিছু দিনের মইধ্যে, সরকার বাতিল করা, পর্যায়ক্রমে ইস্কান্দার মির্জা, ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খান , ইয়াহিয়া খানেরা পাকিস্থান নামক মুসলিম দেশটাকে একটি শোষণের হাতিয়ার করে রেখেছিল । সামরিক শাষণ, তথাকথিত মৌলিক গণতন্ত্র, সবই ছিলো, ঐ শোষণের কৌশল হিসেবে। সেটা বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন সেই শুরু থেকেই। তাইতো ১৯৬৬ সনের বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফায়, পুর্ব পাকিস্থানের স্বায়িত্ত্বশাষণ আর অর্থনৈতিক মুক্তির দাবীর ভিতরেই লুক্কায়িত ছিল, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা “। আর তার দীর্ঘ সংগ্রাম, জীবন – যৌবনের ১২ টি বছর জেল খানায় কাটানো, আর অসহযোগ অন্দোলন আর ১৯৭১ সনের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিতরেও লুক্কায়িত ছিল, এদেশের মুল বিষয় , “কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন”। আর যেটা পূর্ণতা পেতো, ১৯৭৫ সনের ২য় বিপ্লবের মাধ্যমে। যেটা বঙ্গবন্ধু করে যেতে পারেন নি !।
স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষকের খাজনা মওকুফ, ভূমিহীনদের মাঝে কৃষি খাস জমি বন্দবস্তো , কৃষি ঋণ মৌকুফ, বিনা মুল্যে সার, কিট নাশক প্রদান, ১০০ বিঘা জমি রাখার সিলিং নির্ধারণ। গ্রাম পর্যায় হাজার হাজার প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্টা, সহ যে বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন, তখন আর কাউকে ব্যাখা করে বুঝাতে হয়নি বঙ্গবন্ধুর ভিতরটা কি ছিলো। আসলে বঙ্গবন্ধু সমস্ত মন আর আত্তাটাই ছিল এ বাঙ্গালী মানুষ নিয়ে, এ কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে।
এখানে একটি বিশেষ বিষয় উল্লেখ করবো। এটাকে কে কি ভাবে মূল্যায়ন করবেন জানি না। কিম্তু আমার কাছে এটা অনেক অনেক বিরাট মনে হযেছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু হাজারো অবদান আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যার ব্যাখ্যা দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলা যাবে। কিন্তু আমার কাছে ঐ হাজারো কাজের মাঝে,একটা বিষয়ে আমি বিশেষ ভাবে বলবো। হয়তো এটাকে আমার দুর্বলতাও বলতে পারেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন জাতির পিতা। যখন তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী । যখন তার অঙ্গুলি হেলনে সব কিছু ঘটত। যখন জাতীয় সংসদে কোন আইন পাশ করা, শুধু উপস্থাপনের বিষয় ছিলো। সেই সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কৃষি ও কৃষকের কথা চিন্তা করে, তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য, তাদের দাবী আদায়ের জন্য, ১৯৭২ সনের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ এর প্রতিষ্টা করেন। এটা যে বঙ্গবন্ধুর, কতো বিরাট মনের পরিচয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ বিষয় আবারও আসবো ।

লেখক /কলামিস্ট /এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা ।

আজকালের কন্ঠ /এমএম

প্রিন্ট করুন