Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১:১৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ২, ২০২৩ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ

সিন্ডিকেটের কবলে অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক প্রজেক্ট

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য প্রতিবন্ধী বান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন তা সত্যি সারাবিশ্বে রোল মডেল হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর নেতৃত্বে অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রশংসনীয় সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে সকল ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরণের সরকারি প্রকল্প ও সেবার মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন এবং সেবা প্রদান করে একীভ‚ত সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো প্রতিটি জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক প্রতিবন্ধী সাহায্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে থেরাপি সহায়তা প্রদান, প্রতিবন্ধীদের ওয়ান স্টপ সেবা প্রদান ইত্যাদি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন ও অনন্য কিছু ভবিষৎ উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্ট) কর্তৃক পরিচালিত ১৪ টি ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র’ এবং ‘অটিজম ও এনডিডি ব্যক্তিদের জন্য ৮ বিভাগে ৮ টি আবাসন ও পুর্নবাসন প্রকল্প’।

অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু এতো চেষ্টার পরেও একটি বড়, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে পুরো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক প্রকল্পের কাজ গুলো। বিশেষ করে অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক প্রকল্প মানেই তাদের স্বর্গরাজ্য। জাতীয় প্রতিববন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় নির্দিষ্ট প্রকল্পে অসৎ উপায়ে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দুইজন উপপরিচালক শেখ মোতালেব ও রাজীব হাসান হচ্ছে এদের মূলহোতা। শেখ মোহাম্মদ মোতালিব ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল এন্ড ইকোনোমিকাল ডেভেলপমেন্ট ইউটিলাইজিং দি কমিউনিটি রির্সোস (ওসিক) নামক সংস্থার সভাপতি হয়ে কিভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের জাতীয় প্রতিববন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় নির্দিষ্ট প্রকল্পে উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং বর্তমানে নিয়োগের শর্তানুযায়ী প্রথম শ্রেণীর (৬ষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদমর্যাদার) কর্মকর্তা না হয়েও এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র’ প্রকল্পে উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। আর রাজীব হাসানতো এক ডিগ্রী উপরে। তিনি জাতীয় প্রতিববন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় নির্দিষ্ট প্রকল্পে উপপরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শর্তানুযায়ী হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্তে¡ও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বিশেষ করে রাজীব হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও মিথ্যা হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নকল পিএইচডি ডিগ্রী দেখিয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্তে¡ও উপরিচালক পদে কাজ করেছেন। এতকিছুর পরেও চরম অসৎ হওয়া সত্তে¡ও এনডিডি প্রোটেকশন ট্রাস্টের ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র’ প্রকল্পে উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মকর্তা-কর্মচারী কাছ থেকে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে প্রকল্পে বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার। এসব দুনীর্তির পেছনে ছিল জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)। ২০১৯ সালে এই দুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজিব হাসানকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সমাজকল্যান মন্ত্রণায়লয়ের সচিব জনাব জাহাঙ্গীর আলম এ মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকে মন্ত্রণালয়ের যত দুর্নীতি এবং অসঙ্গতি দূর করার চেষ্টা করছেন। নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্ট) কে এই দুর্নীতি থেকে মুক্ত করতে প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের বদলীর মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট থেকে দূরে রাখতে সফল হন। কিন্তু কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, এনডিডি সুরক্ষা ট্রাষ্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জনাব মোঃ শাহ আলমকে ব্যবহার করে আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে সেই দুর্নীতিগ্রস্থ সিন্ডিকেট। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পর ইতিমধ্যে শেখ মোতালেব এনডিডি ট্রাস্ট এর ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাকেন্দ্র’ প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে টেন্ডার বানিজ্যসহ নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেছে। নতুন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলার অভিযোগ আসছে। আরো জানা যায় পছন্দের মানুষ কে টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার জন্য টেন্ডার বাতিল ও করা হয়। এমন কি শেখ মোতালেব ৬ষ্ঠ গ্রেডের পদমর্যাদার কর্মকর্তা না হয়েও এবং একটি প্রকল্পের উপপরিচালক হয়ে আবার আরেকটি প্রকল্পে উপপরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে কিভাবে কাজ করে তা কারো বধোগম্য নয়। বিশেষ করে এই চুরি ও দুই নম্বরের মূল হোতারা বিশেষ করে শেখ মোতালেব ও রাজিব হাসান নিজেরা উক্ত প্রকল্পে যোগদানের জন্য উপপরিচালক পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও শর্তাবলি নিজেদের মত করে বানিয়েছেন। এই কাজে সহযোগিতা করেছেন আগের বদলিকৃত প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটকে সহযোগিতা না করার জন্য এবং সিন্ডিকেটের নতুন অভিপ্রায় বাস্তবায়নের লক্ষে গত ছয় মাসে দুইবার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

বিশেষ করে শেখ মোতালেব ও রাজিব হাসান গং বর্তমান প্রকল্পকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। এমনকি জনবল নিয়োগের যোগ্যতা ও শর্তাবলি নিজেদের মত তৈরি করে নিয়েছেন। এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এবং বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এসব কর্মকান্ডের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন সবার একটাই প্রশ্ন আদৌ কি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের বর্তমান প্রশাসন পারবেন এই দূনীতিগ্রস্থ সিন্ডিকেট থেকে ট্রাস্টকে মুক্ত করতে এবং তাদের করালগ্রাস থেকে প্রকল্পকে রক্ষা করতে? নাকি এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টকে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সুবর্ণ ভবনে স্থানান্তর করে নিজেদের ইচ্ছামত প্রকল্পকে সাজিয়ে দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি করার পায়ঁতারা চলবে।

অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র’ প্রকল্পের মেয়াদকাল এপ্রিল ২০২২-মার্চ ২০২৫। ইতিমধ্যে পার হয়ে গিয়েছে ১ বছর ৪ মাস। এই সময়ের মধ্যেও প্রকল্পের কোনো কর্মকান্ডই সম্পন্ন হয়নি। বাড়ি ভাড়ার টেন্ডার ২ বার বাতিল করা হয়। জনবল নিয়োগ এর টেন্ডার একবার বাতিল করা হয়, এবং ২য় মেয়াদে টেন্ডার দেয়া হয় ২০ ফেব্রুয়ারী,২০২৩। যেটির ও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। থেরাপি যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ এ হলেও সেটাও বাতিল এর পথে। চলমান গাড়ির টেন্ডার ও আলোর মুখ দেখিনি এখন পর্যন্ত। এই ব্যার্থ কার্যক্রম গুলোতে অপচয় হচ্ছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা।

প্রিন্ট করুন