Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ২৮, ২০২০ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

করোনার কারণে বাসা ভাড়া মওকুফ করলেন ব্যবসায়ী বিল্লাল

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মহামারী করোনাভাইরাসকে পূঁজি করে অনেকেই করছেন ব্যবসা। আবার এর মোকাবিলায় সর্ব সাধারণদের সহযোগিতা করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসছেন অনেকেই। তেমনই একজন ব্যক্তি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কোনাবাড়ী থানার হরিনাচালার ৮নং ওয়ার্ডের সেলিম নগরের বাসিন্দা মোঃ বিল্লাল হোসেন। তিনি তার তিনটি বাড়িতে বসবাসরত প্রায় ৪০ টি ভাড়াটিয়া পরিবারদের সরকার ঘোষিত যতদিন বন্ধ রাখবে এমনকি সামনে আরো বন্ধের ঘোষণা যতদিন আসবে, তত দিন /মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিবেন বলে জানিয়েছেন । তিনি আরো জানিয়েছেন আমার বাসায় বসবাসরত যে কয়টি ভাড়াটিয়া আছে তাদের মধ্যে যদি কেউ বলেন যে, আমি কোম্পানি থেকে কোনো বেতন পায়নি/অথবা কাজ কর্ম নেই তাদেরকে আমি যতদিন পর্যন্ত বেতন পাবে না, অথবা কাজকর্মের পরিবেশ ফিরে আসবেনা, ততদিন পর্যন্ত আমার নিজ অধ্যায়নে বাজার খরচও বহন করব।

মোঃ বিল্লাল হোসেন সেলিম নগরস্হ ভাই বোন জেনারেল স্টোর এন্ড মুদি মনোহরী দোকানের মালিক। কথা হলে তিনি জানান, মহামারী করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত।

তিনি বলেন, আমার ভাড়াটিয়ারা অনেকেই গার্মেন্টসকর্মী, দিনমজুর। তারা দিন আনে দিন খায়। করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজ কর্মও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দেবে? এসব ভেবেই আমি তাদের বাসভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল মওকুফ করে দিয়েছি।

মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবা আব্বাস আলী মুন্সী একজন গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। আমার বাবা এবং বড় ভাইয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের কাছ থেকেই মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ শিখেছি। গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম, আমি আমার অবস্থান থেকে কী করতে পারি? আমি নিজেও মধ্যবিত্ত মানুষ। উচ্চবিত্তদের প্রচুর টাকা আছে, তাদের অভাব হবে না। কিন্তু মধ্যবিত্তের ও নিম্নআয়ের মানুষের সংকট বেশি। তারপর আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

তিনি বলেন আমি সকল বিত্তবানদের কাছে আহ্বান জানাই এই দুর্যোগপূর্ণ মহামারী করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে অসহায়, দুস্থ, গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের একান্তই দরকার।

আজকালের কন্ঠ /কবির /মিজান

প্রিন্ট করুন