আজকালের কন্ঠ ডেস্ক: খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে বর্তমান মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ চারজন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। জাতীয় পার্টি থেকেও মেয়র পদে একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সামাজিক সংগঠন আগুয়ান-৭১ এর পক্ষ থেকেও মেয়র পদে প্রার্থিতা দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী-খুলনা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ মে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ৯ এপ্রিল বর্তমান মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। এছাড়া মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান, কেডিএ’র সদস্য এবং বর্তমান সেনাপ্রধানের বোন রুনু রেজা (রুনু ইকবাল বিথার)। আওয়ামী লীগের পক্ষে আরও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।
দলীয় সূত্র জানায়, তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনায় যোগ্য প্রার্থী। এর বাইরে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি একাধিকবার সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। খুলনার ব্যবসায়ী সংগঠনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ। আইনজীবী সমিতিতে বারবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রার্থী হিসাবে তিনিও হেভিওয়েট বলেই মনে করছেন অনেকে। এর বাইরে সাবেক যুবলীগ নেতা শহীদ ইকবাল বিথারের স্ত্রী অধ্যাপক রুনু রেজারও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি কেসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
প্রার্থিতার বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি এ বাবুল রানা বলেন, এখনো বর্তমান মেয়র ছাড়া তিনজন নেতা দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানতে পেরেছি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউই নির্বাচন করবেন না বলে বিশ্বাস করি।
জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তালুকদার খালেক প্রথমবার সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮১২ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৬ ভোট। ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আবারও নির্বাচন করেছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক। ওই নির্বাচনে নগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনি ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। আর তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৫ মে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সংসদ-সদস্য ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা যুগান্তরকে জানান, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না।
নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না। তিনি বলেন, গত সিটি নির্বাচনে দেখা গেছে কিভাবে ভোট ডাকাতি হয়। বর্তমান সরকার ‘খুলনা মডেলে’র নির্বাচন সারা দেশে অনুসরণ করেছে। এজন্য তারা সেই নির্বাচনই আবার করবে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ যদি নির্বাচনে যান সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। দল তার সঙ্গে থাকবে না। এক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
জাতীয় পার্টি থেকেও মেয়র পদে একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। দলীয় সূত্র জানায়, ৭ এপ্রিল খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে কেসিসির মেয়র প্রার্থী নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। তবে সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন-জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, নগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহানন্দ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে গতবার জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে কেসিসির নির্বাচনে অংশ নেওয়া আলোচিত এসএম মুশফিকুর রহমান ৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, অনেকেই মনোনয়ন চাইছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে আমি আশাবাদী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও নগরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল মেয়র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, দল আমাকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করছি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখনো নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তবে সিদ্ধান্ত হলে আমি প্রার্থী হতে পারি। গতবারও আমরা গণমুখী নির্বাচন থেকে বঞ্চিত।
এদিকে ৩ এপ্রিল খুলনার সামাজিক সংগঠন আগুয়ান-৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ চৌধুরী মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর অধিকারগুলোকে পুনরুদ্ধারে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আগুয়ান-৭১ এর তরুণরা রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে জন্যই আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :