রিপোর্টার,খান মো: মেহেদী :- বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের চৈতা বাজার ব্রিজ হতে টেংরাখালি রেজিস্ট্রি প্রাইমারি স্কুল ভায়া ইউনাইটেড হাই স্কুল আজিজ মেম্বার বাড়ির সামনে রঘুনাথপুর ছাব্বিশ ঘর খালের উপর আয়রন ব্রিজ নির্মাণ কাজ পায় পিরোজপুর মঠবাড়িয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নওশীন ট্রেডার্স।
পূর্নবাসন প্রকল্প আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ৮১১ টাকা বরাদ্দে ব্রিজ নির্মাণ কাজের আদেশ পায়। যার কার্যা আদেশ ২৬ মে ২০২২ সালে ব্রিজ নির্মাণ শুরু করে ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠে নওশীন ট্রেডার্স এর প্রো: শামিম সোহাগের বিরুদ্ধে ,পার্শ্ববর্তী উপজেলা বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের ঠিকাদার আবুল হোসেনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে ব্রিজটি। ছয় মাসেও সে নির্মাণ কাজ শুরু না করায় বাকেরগঞ্জের ঠিকাদার কাজি বশিরের কাছে দ্বিতীয়বার বিক্রয় করে। বিক্রয় নিয়ে তিন ঠিকাদারদের মাঝে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
গত ২ জানুয়ারি’ তিন ঠিকাদারের ঠেলাঠেলি নির্মাণ হয়নি ব্রিজ, সাঁকোই পারাপারের ভরসা শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়ে চড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কাজি বশির গত এক সপ্তা যাবৎ ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। ব্রিজটি নির্মাণ হলে স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হবেনা। ব্রিজটি নির্মিত হলেই এলাকাবাসীর জন্য যাতায়াতব্যবস্থাসহ জীবনমান উন্নয়ন হবে।
অপরদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায়’ তিন ইউনিয়নবাসীর ভরসা এখন ভাঙা সেতু
শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের সুখী নীলগঞ্জ ভারানি খালের ভাঙা সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গতকাল বুধবার (২২ মার্চ) স্থানীয় গারুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ার্যমান এস এম কাইয়ুম খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে আপাতত সেতুটির ওপরে ভাঙা অংশে কাঠের পাটাতন দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে। এছাড়া নতুন সেতুর জন্য প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তবে পাটাতন বসালেও জরাজীর্ণ সেতুটি যেকোন সময় ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙাচোরা রেলিংয়ের কারণে সেতু পারাপারের সময় শিশুদের খালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি নতুন সেতু যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণ করা হোক।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাদ্রীশিপুর রঘুনাথপুর ছাব্বিশ ঘর খালের উপর আয়রন ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করি এক মাসের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হবে।