কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াকাটার অদূরে পায়রা বন্দর রামনাবাদ এলাকায় চলছে ঝাটকার মহোৎসব। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে এসব ঝাটকা নিধনে মেতে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
দেখাগেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি কু-চক্রি মহল নিজেদের আখের গোছাতে টাকার লোভে মরিয়া হয়ে পায়রা বন্দর রামনাবাদ এলাকার চারিপাড়া, মুন্সীপাড়া, চান্দুপাড়া এসব এলাকায় ঝাটকা নিধন করে বিকিকিনি করছে। কতিপয় প্রভাবশালী অসাধু আড়ৎদার ব্যবসায়ীদের যোগসাযোসে এসব কর্মকান্ড চলছে বীর দাপটে।
সূত্রে জানাযায়, ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট মাছ ধরা ট্রলারে কারেন্ট জালের মাধ্যমে মাছ মেরে এমন অপরাধ প্রবন ঝাটকার রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। এভাবে ঝাটকা নিধন প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলে সরকারের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ভেস্তে যাবে বলে অনেকের ধারণা। কারণ নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ, আর সমুদ্র ঘেষা বাংলার সোনালী ফসলের পাশাপশি সামুদ্রিক রূপালী ইলিশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রশংসার দাবীদার। তাই যেভাবে ঝাটকা নিধন চলছে তাতে ভরা মৌসুমেও রূপালী ইলিশ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পরবে। ফলে সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
এছাড়া কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন খোলা বাজারে প্রতিনিয়ত ঝাটকা ইলিশ বিক্রয় করতে দেখাগেছে।
এব্যাপারে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কারেন্ট জাল দিয়ে ঝাটকা নিধন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে থাকবে।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা বলেন, কারেন্ট জাল ও ঝাটকা নিধনের উপর আমাদের অভিযান চলছে এবং বর্তমানে আরও অভিযান পরিচালনা করবো।
উল্লেখ্য সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দর রামনাবাদ এলাকা থেকে ২লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৩মণ জাটকা জব্দ করা হয়েছে। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামানের নের্তৃত্বে দিনভর অভিযান চালিয়ে ২লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৩মণ জাটকা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
জব্দকৃত জাল কলাপাড়া হ্যালীপ্যাড এলাকায় এনে কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অপরদিকে জাটকা ৩মণ কলাপাড়ার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
সচেতন নাগরীক ও স্থানীয়রা কারেন্ট জাল দিয়ে ঝাটকা সহ সামুদ্রিক অন্যান্য মাছ নিধন বদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
আজকালের কন্ঠ /মিজান