Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:২৩ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ১৭, ২০২৩ , ৬:০২ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জুতা পায়ে শ্রদ্ধা জানালেন লামার ইউএনও

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ জয়নাল আবেদীন বান্দরবানঃ আজ ১৭ই মার্চ, মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। এই দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের মানুষ।

কিন্তু লামা উপজেলায় এবার ফুলেল নিবেদন ভিন্ন রকম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা জানানো হয় পায়ে জুতা পরে। সেটি আবার লামা উপজেলা প্রশাসন ইউএনও মোস্তফা জাবেদ কায়সারের কান্ড। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী মধ্যেও তিনি জুতা পায়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৃতিতে ফুল দিয়ে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা জানানোর সময় বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য লামা উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তার নিজস্ব আইডি সামাজিক যোগাযোগ (ফেইসবুক) মাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন।
সেখানে দেখা যায় শ্রদ্ধা সাথে খালি পায়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি স্তম্ভের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু জুতা পায়ে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোস্তফা জাবেদ কায়সার।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করার পর কয়েক মিনিট পর জুতাপায়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের ছবি ভাইরাল হতে শুরু করে। এতে ছবিটি নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ছে। সচেতন মহল এটিই নিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া বিষযটি নিয়ে উপজেলা জোড়ে চলছে সমালোচনা এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এবিষয়ে জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা জাবেদ কায়সার বলেন, মুরালের ফুল দেওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবে সবাই জুতা খুলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইচ্ছাকৃতভাবে আমি করি নাই। এই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি স্তম্ভটি কাছে হওয়ার কারণে মানুষের ঠেলাঠেলিতে আমার এক ডান পা সম্ভবত উঠে গেছে।

এদিকে লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ জানান ইউএনও সাহেব বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জুতা পায়ে কেন ফুল দিতে উঠবে যদি উঠে তাহলে জুতা রেখে উঠার দরকার ছিল। পায়ে ছবিটা আমি এখনো ভালো করে দেখেনি তবে এটা আমাকে আরো অনেক জনে বলছে আমি বিষয়টা একটু দেখি বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

এবিষয়ে লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা তিনি। একজন ইউএনও যদি এমন ভুল করে তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে বলে প্রশ্ন তুলেন? জাতি তাদের কাজ থেকে কি শিক্ষবে! বুঝতে পারছি না জাতিকে অবমাননা এমন জঘন্য কাজটি কেন করলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও লামা উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফাতেমা পারুল বলেন, লামা ইউএনও ভালো মানুষ এবং সবকিছুতেই নিয়ম শৃঙ্খলা মানে। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধার জানানোর সময় কোন সংস্থান কে আগে যাবে এই নিয়ে ঠেলাঠেলি হচ্ছিল। সেই কারণে হয়তো ওনার (ইউএনও) পা ভুলবশত উপরে উঠে গেছে এটা নিয়ে কিছু করার দরকার নেই বলে অনুরোধ করেন তিনি।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি কাছে জানতে চাইলে। তিনি প্রতিবেদককে বলেন , এই ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।

প্রিন্ট করুন