মো : জাহিদ হাসান, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি : জীবন বাঁচাতে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের বলরামপুর গ্রামে হুরাসাগর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পার হওয়ার সময় কচুরিপানার ভিতরে আটকে আনিছুর (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭মার্চ) সকালে উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের হুরাসাগর নদী থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আনিছুর উপজেলার কর্ণসুতি গ্রামের মৃত রেজাউল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বলরামপুর বাজারে সকালে হোটেলে অটোচালক আনিছুর খাবার খাওয়ার পর হোটেলের পিছনে কে বা কাহারা তাহার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে আনিছুর হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে চলা হুরাসাগর নদীর কিনার দিয়ে দৌড়ে কিছুদুর যাওয়ার পর নদী পার হওয়ার জন্য নদিতে ঝাপ দেয়। নদীতে অধিক কচুরিপানা থাকায় তার ভিতরে দিয়ে যাওয়ার সময় কচুরিপানায় আটকে তার মৃত্যু হয়।
কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের লিডার শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল এগারোটার দিকে এলাকাবাসী ষ্টেশনে ফোন দিলে আমরা একটি ইউনিট নিয়ে সেখানে যাই এবং পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমাদের ফায়ার ফাইটার বাধন দত্ত ও বাবলু মিয়া লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত আনিছুরের চাচা রফিক মন্ডল বলেন, গত মাসের ৭ তারিখে আনিসুরের ঘরের পিছনে তার পাড়া প্রতিবেশী ফুফু সালেকার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সালেকার ভাই আমির হোসেন, মজিদ, খালেক, কালাম এরা আনিসুরকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তার ভয়ে প্রায় এক মাস যাবৎ বেলকুচি থানার বানিয়াগাতী আনিসুরের শশুর বাড়ি পালিয়ে থাকে। আজ হটাৎ করে অচেনা কেউ তার খোজ নিতে আসলে সে ডিবি পুলিশ ভেবে দৌড় দিয়ে নদীতে ঝাপ দিলে কচুরিপানায় আটকে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কামারখন্দ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আনিসুরের মৃত্যুর সকল বিষয় তদন্তাধীন আছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট ও সার্বিক তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।