আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশু আশামণির (তোহা) লাশ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ডিএনডি খালের হাজীরবিল এলাকায় ভাসমান ময়লার নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক।
নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর থেকে লাশটি পাওয়া যায়। পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কছে হস্তান্তর করে কদমতলী থানা পুলিশ। এরপর মেরাজনগর এইচ ইউসুফ হাইস্কুল সংলগ্ন সড়কে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লাশ মুন্সীগঞ্জের চরশেলই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
আশামণির লাশ উদ্ধারের সংবাদ শুনে তাকে একনজর দেখতে মেরাজনগর, মোহাম্মদবাগ, কদমতলী, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মুন্সীবাগ, শনিরআখড়াসহ এলাকার হাজারও নারীপুরুষ ভিড় করে। এ সময় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক জানান, ডিএনডি খালের হাজীরবিল এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ময়লা ও ঘাস রয়েছে। খালের ওই জায়গায় প্রায় তিন ফুট পানি রয়েছে। সকালে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। একপর্যায়ে আমার পায়ের মধ্যে কি যেন একটা লেগেছে অনুভব করি। এতে আমার সন্দেহ হয়। ওইখানে আবার তল্লাশি চালাই। একপর্যায়ে শিশু আশামণির লাশ আমার হাতে লাগে। আমি লাশটি ময়লার নিচ থেকে বের করে ওপরে নিয়ে আসি।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলনেতা আবুল খায়ের বলেন, ৬ দিন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ডুবুরি দলের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অসুস্থতা নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) তল্লাশি চালিয়েছি। শিশুটিকে পেয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।
এ মৃত্যুর জন্য ডিএনডি খাল সংলগ্ন জমির মালিককে দায়ী করেছেন মেরাজনগর ও মোহাম্মদবাগ এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলেন, খাল সংলগ্ন জমির মালিকের জায়গায় বাউন্ডারি থাকলে আশামণি লাশ হতো না। তারা আরও বলেন, আর যেন কোনো মায়ের বুক আশামণির মতো খালি না হয়। সেজন্য ডিএনডির খাল সংলগ্ন সব জমিতে যেন বাউন্ডারি দেয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের উপ-সহকারী পরিচালক নজমুজ্জমান বলেন, ৬ দিন উদ্ধার কাজ করার পর আমরা সফল হয়েছি। খালে ময়লা না থাকলে শিশুটি আরও দ্রুত উদ্ধার করতে পারতাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া দেরিতে হলেও লাশটি পাওয়ার জন্য।
শনিবার বিকাল পৌনে ৪টায় আশামণি তার মেরাজনগর ডি-ব্লক বাসা সংলগ্ন খালি জায়গায় ৩ শিশুর সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিল। হঠাৎ পাশের ডিএনডি খালে তাদের বল পড়ে যায়। আশামণি বলটি উঠাতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে যায়। এ সময় আশামণি বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করে।
শিশু ফরাজ আশামণিকে উদ্ধার করতে হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ফরাজের পা পিছলে যায়। এরই মধ্যে আশামণি ডুবে যায় ও পানির স্রোতে অন্যত্র চলে যায়। অপর শিশু আবদুল্যাহ দৌড়ে গিয়ে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। শিশুটির মা আসতে আসতে আশামণি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন খালে নেমেও আশামণির সন্ধান পায়নি।
আশামণির বাবা এরশাদ স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী। মেরাজনগর ডি-ব্লকে ভাড়া বাসায় থাকেন। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরশেলই গ্রামে। আশামণিকে মেরাজনগর ফারাহ মডেল স্কুলে শিশু শ্রেণিতে (প্লেতে) ভর্তি করেছিলেন তার বাবা-মা। তাদের ১১ মাসের আরেকটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
আজকালের কন্ঠ /এমএম