মোঃ ফারুক হোসেন রানা, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : নিজ গ্রামে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সিরাজের বাবা। বুড়ো বাবা অনেক সময়ই অসুস্থ থাকলে দায়িত্বটা পড়তো সিরাজের কাঁধে। গ্রামের মেঠোপথে অনভিজ্ঞ সিরাজ অটোর হ্যান্ডেল ধরতেন অত্যন্ত সাবধানে। এদিক-ওদিক হলেই ঘটবে দুর্ঘটনা। সেই অনভিজ্ঞ অটোচালক এখন দক্ষ হাতে সামাল দিচ্ছেন ভারতীয় বোলিংটাকে। গ্রামের সেই ভাঙ্গা রাস্তাটা সিরাজকে উল্টে দেয়ার ভয় দেখাতো; সময়ের পরিক্রমায় সিরাজ এখন প্রতিপক্ষকে উল্টে দেন। যেই ভয়টা সিরাজ তখন পেতেন; সিরাজের হাতে বলটা এলে প্রতিপক্ষ এখন সেই ভয়টাই পায়।
পরিশ্রমী বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে ভারতের হয় খেলবে। সিরাজ খেলছেন। সিরাজ বলেছিলেন,
‘আমার স্বপ্ন আমি কিছু টাকা আয় করব,একটা ভাল বাড়ি নিব এবং সেখানে বাবা-মাকে নিয়ে থাকব’
সিরাজ আজ কোটি টাকার মালিক, ভালো গাড়ি, ভালো গাড়িও সিরাজের আছে তবে পরিশ্রমী বাবা সিরাজে এমন সুপার সাক্সেসের পুরোটা দেখে যেতে পারেন নি। অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ চলাকালীন সময়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে দেশ মাতৃকার সেবায় নিয়োজিত সিরাজ সেসময় আসতে পারেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই টেস্ট সিরিজ জয় করে সরাসরি বিমানবন্দর থেকেই চলে গিয়েছিলেন বাবার কবরে।
জীবনযুদ্বে হার না মানা সিরাজ মাঠেও হার না মানুক। শুভ কামনা মোহাম্মদ সিরাজ ।