নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদকমুক্ত পরিবেশবান্ধব ওয়ার্ড গড়তে চান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
একই সঙ্গে মাদকমুক্তসহ ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে চান তারা।
পানি ও মশক সমস্যার সমাধান, প্রশস্ত রাস্তা, খেলার মাঠ, কমিনিউটি সেন্টার নির্মাণ করারও অঙ্গীকার করেছেন কেউ কেউ। যে উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবে ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবে- বিভিন্ন মহলে এমন আলোচনা চলছে।
ডিএনসিসি অঞ্চল ০৫ আওতাধীন প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যা ও ৪৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত ২৮ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে হোল্ডিং রয়েছে ১৭১৯টি। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে অনেক কোয়ার্টার।
আগারগাঁও স্টাফ কোয়ার্টার, পশ্চিম আগারগাঁও, কাফরুল, তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, শ্যামলী রোড নং-১, মহাকাশ বিজ্ঞান ভবন জি টা এ ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ওয়ার্ডটির আয়তন ১.৫২৮ বর্গকিলোমিটার।
এ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্তমান কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন, শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদুল আলম খান কাজল, বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক একেএম আজম খান, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী বেলায়াত হোসেন খান, শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিন্টু, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফতাব উদ্দিন জসিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত এ ওয়ার্ডের অনেক রাস্তায় খনাখন্দে ভরা। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য কোনো খেলার মাঠ, প্রবীণ নাগরিকদের অবসর সময় কাটানোর জন্য কোনো পার্ক বা বসার স্থান নেই। নেই শরীর র্চচা কেন্দ্র।
ওয়ার্ডের কিছু স্থানে অনেক সময় দেখা দেয় বিশুদ্ধ গ্যাস ও পানির সংকট। অনেক স্থানে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা, পশ্চিম আগারগাঁও পানির ট্যাংকি মোড় থেকে বিএনপি বাজার, সঙ্গীত কলেজ ও বঙ্গবন্ধু একাডেমির সামনের অংশের রাস্তা খনাখন্দে ভরা। কিছুদিন ধরে অবশ্য এসব রাস্তায় সংস্কার কাজ চলছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন বলেন, এ ওয়ার্ডে অনেক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলো চলমান রয়েছে।
কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। মাদক আগের তুলনায় নেই বললে চলে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে এ ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট, পানি, গ্যাসসহ নানা প্রকার সমস্যা ছিল, ইশতেহার অনুযায়ী আমি শতভাগ কাজ করেছি।
পুনরায় নির্বাচিত হলে কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠ তৈরিসহ এ ওয়ার্ডকে একটি মানবিক আধুনিক ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলব।
শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদুল আলম খান কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি।
ভোটাররা আমাকে এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রত্যাশা করেন। আমি গত নির্বাচনে দলের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করি। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে যা যা করণীয় সব করবেন বলেও জানান তিনি।
একেএম আজম খান বলেন, আগারগাঁও এলাকায় দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউন্সিলর প্রয়োজন। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি।
এ ওয়ার্ডেও মানুষের পাশে সুখে দুঃখে সবসময় দাঁড়াই। আমি আশা করি, যারা মানুষের সুখে দুঃখে সবসময় পাশে থাকবে এমন একজন ব্যক্তিকে তারা নির্বাচিত করবে।
আফতাব উদ্দিন জসিম বলেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, আমার দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব। এই ওয়ার্ডের কী সমস্যা আছে তা জনগণই ভালো বলবে। আমি নির্বাচিত হলে বর্তমান সমস্যা সমাধানসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করব।
মুক্তিযোদ্ধা হাজী বেলায়েত হোসেন খান বলেন, আমার দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি নির্বাচন করব। কেননা আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। আশা করি, ভালো একজন মানুষকে বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবে।
আজকালের কন্ঠ /মিজান