মো. মোশারফ হোসেন দশমিনা পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা হাজীরহাট লঞ্চঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে উপজেলা সদরে প্রবেশের একমাত্র ব্যস্ততম সংযোগ খালটির প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে পাথরের খোয়া, ইট ও বালুবাহী কার্গো এবং ড্রেজার বহনকারী নৌযান পার্কিং করে রাখায় প্রায়ই সৃষ্টি হয় নৌ যানজটের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই খালটির উপজেলা সদরের দশমিনা বরিশাল মহাসড়কের সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজ এলাকায় নবনির্মিত গার্ডার সেতু থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে প্রায়শই এলোপাতাড়িভাবে পার্কিং করা থাকে পাথরের খোয়া, ইট ও বালুবাহী কার্গো এবং ড্রেজারবহনকারী জলযান। ফলে সংকীর্ণ খালটির ওই এলাকা দিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানগুলো প্রতিবন্ধকতামুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারে না জলপথটি। এতে ভোগান্তিতে পড়ে উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আগত যাত্রী, রোগী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়াদের অভিযোগ অন্যদিকে খালের পাড় ঘেঁষে দিনের পর দিন নৌযানগুলো পার্কিং করে রাখায় সৃষ্ট স্রোতের চাপে ভাঙ্গনকবলিত হয়ে পড়েছে খালটির উভয় পাড়।
জানা যায়, উপজেলা সদরের সাথে ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটলেও উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীবেষ্টিত অপর দ্বীপাঞ্চল ইউনিয়ন চরবোরহানসহ চর উত্তর শাহজালাল, চর দক্ষিণ শাহজালাল, চরহাদী ও চরভুতম এলাকার সাধারণ মানুষের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম এই নৌপথটি।
চরবোরহান ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আলী আকব্বর মৃধা জানান, এমন নৌ যানজটের কারণে যাত্রীবাহী ট্রলার ধীরে ধীরে চালাতে হয়। কোনো কোনো সময় ট্রলার থামিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তাতে আমাদের দাপ্তরিক কাজে বিঘœ ঘটে। আর জরুরি মুমূর্ষু রোগীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
যাত্রীবাহী ছোট নৌযানচালক বেল্লাল হোসেন বলেন, এ রকম যানজটে আমাদের অতিরিক্ত জ্বালানি, সময় ও শ্রম ব্যয় হয়।
মেহেদী হাসান নামক ড্রেজারে কর্মরত জাকির সরদার জানান, আমাদের এভাবে পার্কিং করে রাখার জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে একটুতো সমস্যা হয়ই।
তিন দিন ধরে পার্কিং করা বালুবাহী কার্গোজাহাজ এম.ভি. খবিরের চালক জহির বলেন, আমরা বালু আনলোড করেই চলে যাই।
দুদিন ধরে পার্কিং করা মেসার্স শেখ শিপিং লাইন্সের খালি কার্গোজাহাজ এম.ভি. মায়ের স্মৃতির চালক ইমরান হাওলাদার বলেন, আমরা মাল রেখেই চলে যাব।
নৌপুলিশ দশমিনা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সুরুজ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব